শিক্ষাবর্ষের একেবারে শেষ সময়ে এসে নানা দাবি আদায়ে রাজপথে নেমেছেন সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। এতে আজ সোমবার থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে শুরু হতে যাওয়া বার্ষিক পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।
রোববার রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় শিক্ষকরা বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা তিন দফা দাবিতে কয়েক দিন ধরে কর্মবিরতি পালন করছেন। তাদের একাংশ আজ থেকে বার্ষিক পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন, যদিও অপর পক্ষ পরীক্ষা নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও চার দফা দাবিতে আজ থেকে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি ও বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। তারা সহকারী শিক্ষক পদকে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারভুক্ত করা, শূন্যপদে নিয়োগ-পদোন্নতি, বকেয়া টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড মঞ্জুরিসহ বিভিন্ন দাবি আদায়ে আন্দোলনে রয়েছেন।
এদিকে সরকারি কলেজের বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের ২৬ থেকে ৩১তম ব্যাচের পাঁচ শতাধিক কর্মকর্তা পদোন্নতিবঞ্চনার অভিযোগে মাউশি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। দীর্ঘদিন একই পদে আটকে থাকার প্রতিবাদ জানিয়ে তারা দ্রুত পদোন্নতির দাবিতে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
সরকারি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও নন-এমপিও শিক্ষকরাও আন্দোলনে রয়েছেন। এমপিওভুক্তি ও জাতীয়করণের দাবিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তারা রাজধানীতে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা এবং প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা একই দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন।
এদিকে অভিভাবকরা আশঙ্কা করছেন, এই আন্দোলন চলতে থাকলে শিশুদের বার্ষিক পরীক্ষা ও পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা দ্রুত সমাধানে আসার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, শিক্ষকদের দাবি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে ১০ম গ্রেডে বেতন দেওয়ার দাবি বাস্তবসম্মত নয়। ১১তম গ্রেড দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং পাঠদান ব্যাহত না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
শিক্ষক নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে কোনো আশ্বাস না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই শিক্ষাবর্ষের শেষ সময়ে আন্দোলনে নামতে হয়েছে। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।