বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা–২০২৫ প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) বিভাগ। রোববার (৭ ডিসেম্বর) প্রকাশিত নীতিমালায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসংখ্যা, পাসের হার, পদোন্নতি এবং বেতন–ভাতা স্থগিতের মতো গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, শিক্ষক–কর্মচারীদের বেতনের সরকারি অংশ পেতে হলে প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত সংখ্যক শিক্ষার্থী এবং ন্যূনতম পাসের হার বজায় রাখতে হবে। এসব শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে বেতন–ভাতার সরকারি অংশ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
পাবলিক পরীক্ষায় ভালো ফলাফল এবং পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী থাকা প্রতিষ্ঠানটির এমপিও সুবিধা বজায় রাখার জন্য বাধ্যতামূলক। নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষার্থীসংখ্যা হবে—
এ ছাড়া উচ্চমাধ্যমিক কলেজ, স্নাতক (পাস), স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর কলেজের ক্ষেত্রেও শহর ও প্রতিষ্ঠানের ধরনভেদে আলাদা আলাদা শিক্ষার্থীসংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, পরিশিষ্ট ‘গ’ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট ন্যূনতম পাসের হার বজায় রাখতে হবে। পাসের হার কম হলে বা শিক্ষার্থীসংখ্যা কমে গেলে সরকারি অংশের বেতন–ভাতা বন্ধ হতে পারে।
বিশেষ নির্দেশনায় বলা হয়েছে— সহকারী শিক্ষকরা ১০ বছর সন্তোষজনক চাকরি পূর্ণ করলে সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি পাবেন। তবে গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান বিষয়ের সহকারী শিক্ষকরা উচ্চতর গ্রেড পেলেও সিনিয়র শিক্ষক পদে পদোন্নতি পাবেন না।
সহকারী শিক্ষক হিসেবে এমপিওভুক্তির পর দশম গ্রেডে ১০ বছর চাকরির অভিজ্ঞতা হলে তাদের বেতন হবে গ্রেড–৯ (২২,০০০–৫৩,০৬০ টাকা)।
নীতিমালার শর্ত অনুযায়ী নিম্নের কারণগুলো ঘটলে বেতন–ভাতার সরকারি অংশ স্থগিত বা বাতিল হতে পারে— শিক্ষার্থীসংখ্যা নির্ধারিত মানের কম হলে, পাসের হার কমে গেলে বা মানদণ্ডে পৌঁছাতে না পারলে, শিক্ষক–কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম হলে, সরকারি অংশ উত্তোলনে অনিয়ম বা জালিয়াতি প্রমাণিত হলে, প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় গুরুতর অসঙ্গতি থাকলে।
মাউশি বিভাগ প্রয়োজন মনে করলে প্রতিষ্ঠানের এমপিও কোডও স্থগিত করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ মন্ত্রণালয়ে আপিল করার সুযোগ পাবে।