রসুন, পেঁয়াজ, মাংস, মাছসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার আমাদের শরীরের গন্ধকে বদলে দিতে পারে। এমনকি উপবাস বা ফাস্টিংও শরীরে বিশেষ ধরনের ঘ্রাণ তৈরি করতে ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের শরীরের গন্ধ তার হরমোন, জিন, স্বাস্থ্য এবং খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
স্কটল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব স্টারলিংয়ের সমাজমনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক ক্রেইগ রবার্টস জানান, প্রতিটি মানুষের শরীরের ঘ্রাণ একেকজনের মতোই ইউনিক। তিনি বলেন,
“স্বাস্থ্য, হরমোন, বয়স, মানসিক অবস্থা—সবই আমাদের গন্ধে প্রতিফলিত হয়। কিছু কারণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে হলেও খাদ্যাভ্যাস পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণযোগ্য।”
নিউইয়র্কের স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বিংহ্যামটনের সহকারী অধ্যাপক লিনা বেগডাসির ব্যাখ্যা অনুযায়ী—
শরীরের গন্ধ দুইভাবে তৈরি হয়:হজমতন্ত্রের মাধ্যমে, ত্বকের ঘামগ্রন্থির মাধ্যমে
হজমের সময় খাদ্যের রাসায়নিক উপাদান ভেঙে গ্যাস তৈরি করে, যার কিছু অংশ নিঃশ্বাসের সঙ্গে বের হয় এবং মুখে দুর্গন্ধ (হ্যালিটোসিস) তৈরি করে।
অন্যদিকে কিছু যৌগ রক্তে মিশে ঘামের সঙ্গে বের হয়ে ত্বকের ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে প্রতিক্রিয়ায় গন্ধ তৈরি করে। ব্রোকলি, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রাসেলস স্প্রাউটস—এসব সবজিতে সালফার বেশি থাকে। হজমের পর সালফার রক্তে গিয়ে ঘামের সঙ্গে মিশে গন্ধ বাড়ায়।
রসুন ও পেঁয়াজে থাকা ‘অ্যালাইল মিথাইল সালফাইড’ নামের যৌগ মুখ ও ঘামে দু’দিকেই তীব্র গন্ধ সৃষ্টি করে।
তবে গবেষণায় দেখা গেছে—
➡ যারা বেশি রসুন খান, তাদের ঘামের গন্ধ অনেক ক্ষেত্রে আরও আকর্ষণীয় মনে হয়।
মাছ ও মাংস ভেঙে ‘ট্রাইমিথাইলামাইন’ তৈরি করে। যা তীব্র দুর্গন্ধযুক্ত।
বিরল ক্ষেত্রে ‘ট্রাইমিথাইলামাইনুরিয়া’ বা ‘ফিশ অডর সিনড্রোম’ও দেখা দিতে পারে।
২০০৬ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে—
➡ মাংস না খাওয়া ব্যক্তিদের শরীরের ঘ্রাণ বেশি মনোরম ও আকর্ষণীয় হয়।
লিভারে অ্যালকোহল ভেঙে তৈরি হয় ‘অ্যাসিটালডিহাইড’—যার ফলে
➡ নিশ্বাসে তীব্র গন্ধ
➡ পানিশূন্যতা
➡ মুখের দুর্গন্ধ
সবই বেশি দেখা যায়।
ক্যাফেইন ঘামগ্রন্থি সক্রিয় করে। এতে ব্যাকটেরিয়ার কার্যক্রম বেড়ে গিয়ে দুর্গন্ধ বাড়তে পারে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে—
✔ ফলমূল ও শাকসবজি বেশি খেলে
✔ ক্যারোটিনয়েডসমৃদ্ধ খাবার (গাজর, টমেটো, কুমড়া, পেঁপে) খেলে
✔ ডিম, মাছ, টফু, সামান্য পরিমাণ ভালো ফ্যাট খেলে
➡ শরীরের ঘ্রাণ মিষ্টি, হালকা ও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে—
— উপবাসে থাকা নারীদের ঘ্রাণ বেশি আকর্ষণীয় বলে মনে হয়েছে।
— আবার নিঃশ্বাসের গন্ধ অনেক ক্ষেত্রে খারাপ হতে পারে।
গবেষকরা বলেন, খাদ্য–ঘ্রাণ–আকর্ষণীয়তার সম্পর্ক জটিল ও ব্যক্তি–ভেদে ভিন্ন। খাবারের উপাদান, শরীরের রাসায়নিক প্রক্রিয়া, জিন, স্বাস্থ্য—সব মিলেই নির্ধারণ করে একজন মানুষের গন্ধ।