মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ০২:৫৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আদিতমারীতে বাকবিতণ্ডা থেকে সংঘর্ষ, ছুরিকাঘাতে কিশোর নিহত ড. ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার আবেদন খারিজ পীরগঞ্জে মাদক ও জুয়ামুক্ত সমাজ গঠনে সেমিনার অনুষ্ঠিত রোগী হয়রানির অভিযোগে দালালকে দিয়ে ড্রেন পরিষ্কার করালো ছাত্রদল ছয় দফা দাবিতে রংপুরে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি ও মানববন্ধন মিঠাপুকুরে বিষাক্ত অ্যালকোহল পানে ৫ মৃত্যুর ঘটনায় দুই আসামি গ্রেপ্তার নির্বাচিত হওয়ার একদিন পরই বিসিবির পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ মীর শাকরুল আলম সীমান্তের কর্ণফুলী নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার বাজেটের অর্থ অপচয়ের অধিকার কাউকে দেয়নি জনগণ: চরমোনাই পীর সৈয়দপুরে লাশ নিয়ে এলাকাবাসীর থানা ঘেরাও

ভুল তথ্য ছড়ানোয় বিভ্রান্তি, সচেতনতার আহ্বান প্রশাসনের

সুন্দরগঞ্জে নারীর মৃত্যু অ্যানথ্রাক্সে নয়, জানাল স্বাস্থ্য বিভাগ

  • সবশেষ আপডেট : সোমবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৬৮ জন সংবাদটি দেখেছেন
অ্যানথ্রাক্স রোগ-প্রতীকি ছবি
অ্যানথ্রাক্স রোগ-প্রতীকি ছবি

গাইবান্ধা অফিস: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে এক নারীর মৃত্যুর খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও, স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে এটি সত্য নয়। বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ওই নারী অ্যানথ্রাক্সে নয়, বরং অন্যান্য শারীরিক জটিলতায় মারা গেছেন।

মৃত নারী রোজিনা বেগম (৪৫) সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের পশ্চিম বেলকা গ্রামের বাসিন্দা এবং কাঠমিস্ত্রি আবুল হোসেনের স্ত্রী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রেসার ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন।

গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. মো. রফিকুজ্জামান বলেন,“রোজিনা বেগমের হাতে ফোসকা ছিল, যা অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গের মতো মনে হয়েছিল। কিন্তু এটি মৃত্যুর কারণ নয়। তিনি প্রেসার, শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য জটিলতায় ভুগছিলেন।”

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. দিবাকর বসাক বলেন,“অ্যানথ্রাক্স ভাইরাসে আক্রান্ত হলেও চিকিৎসা নিলে মৃত্যুর আশঙ্কা নেই। রোজিনা বেগমের শারীরিক অবস্থা আগে থেকেই খারাপ ছিল, তাই তাকে রংপুর মেডিক্যালে পাঠানো হয়।”

আরও পড়ুন- অ্যানথ্রাক্সে নতুন আক্রান্ত আরও দুজন

তিনি আরও জানান, আইইডিসিআর টিম নমুনা সংগ্রহ করবে, তারপর পরীক্ষার রিপোর্টের পর চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

স্থানীয় স্বাস্থ্য সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ১৬ জন অ্যানথ্রাক্স উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের অনেকেই চিকিৎসাধীন এবং বেশিরভাগই ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।

এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর বেলকার কিশামত গ্রামে একটি অসুস্থ গরু জবাই করার পর ১১ জনের শরীরে ফোসকা ও ঘা দেখা দেয়। বর্তমানে পাঁচজন গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালে ও বাকি ছয়জন স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

রোজিনা বেগমের ছেলে রুবেল মিয়া জানান, “মায়ের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন। এলাকায় নানা কথা ছড়াচ্ছে।”

বেলকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা মো. ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ বলেন, “অ্যানথ্রাক্সে মৃত্যুর বিষয়টি পরীক্ষার আগে বলা যাবে না। তবে এলাকায় ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে, তাই সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।”

ভীতি দূর করতে স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন মাইকিং, প্রচারণা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে। এছাড়া গাইবান্ধা স্বাস্থ্য বিভাগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, “রোজিনা বেগমের মৃত্যু অ্যানথ্রাক্সে নয়, গুজব ছড়াবেন না।”

গত ৩০ সেপ্টেম্বর রোজিনা বেগম নিজ হাতে অসুস্থ একটি ছাগল জবাই করার সময় হাড়ের খোঁচায় আঙুলে ফোসকা ওঠে। পরে তিনি স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়, যেখানে তিনি শনিবার রাতে মারা যান।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© All rights reserved © 2025 rnbnews24
Theme Download From ThemesBazar.Com