সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১:৩০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
৯৩ শিক্ষানবিশ এএসপিকে বদলি রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা-১ আসনের সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম চা শিল্পের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর ধেয়ে আসছে মৌসুমি নিম্নচাপ, বৃদ্ধি পাচ্ছে বাতাসের গতিবেগ এক যুবককে একসঙ্গে বিয়ে করেছেন তিন বোন চিকিৎসার জন্য কোথায় যাবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অক্টোবরে ভারতে খেলতে পারে ব্রাজিল, আলোচনায় বাংলাদেশও বিরামপুর সীমান্তে ৯ নারীকে ‘পুশ-ইন’ চেষ্টার অভিযোগ, প্রতিহত করল বিজিবি সেকেন্ড-হ্যান্ড স্মার্টফোন কেনার আগে যে ৭ বিষয় অবশ্যই যাচাই করবেন সান্তোসের ম্যাচ চলাকালে পোকার টুর্নামেন্টে নেইমার, নেটদুনিয়ায় বিতর্ক

বিড়াল–কুকুরের আঁচড় বা কামড়: কখন জলাতঙ্কের টিকা প্রয়োজন?

  • সবশেষ আপডেট : বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১১২ জন সংবাদটি দেখেছেন

আরএনবি স্বাস্থ্য ডেস্ক:ঘরে পোষা বিড়াল বা কুকুর থাকা এখন অনেক পরিবারের জন্য স্বাভাবিক বিষয়। আবার পাড়া-মহল্লায় মনিবহীন কুকুর-বিড়ালের উপস্থিতিও চোখে পড়ে নিয়মিত। শিশু ও বড়রা এসব প্রাণীর সঙ্গে খেলতে গিয়ে বা খাবার দিতে গিয়ে কখনও কখনও আঁচড় বা কামড়ের শিকার হন।

এমন পরিস্থিতিতে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—প্রত্যেকটি আঁচড় বা কামড়েই কি জলাতঙ্কের টিকা নিতে হবে?

এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন গুলশান পেট ক্লিনিকের প্রাণী চিকিৎসক ডা. অমিতাভ বিশ্বাস ও ডা. মনিকা আক্তার রুনা

জলাতঙ্ক কী?

জলাতঙ্ক (Rabies) একটি মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত আক্রান্ত প্রাণীর লালার মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। তবে সব বিড়াল বা কুকুরের আঁচড় বা কামড়েই জলাতঙ্ক হয়—এমন নয়।

প্রাণীটি যদি জলাতঙ্ক ভাইরাস বহন না করে, তাহলে ঝুঁকিও থাকে না। বিশেষ করে পোষা প্রাণী যদি নিয়মিত জলাতঙ্কের টিকা পেয়ে থাকে, তাহলে তার আঁচড় বা কামড়ে সাধারণত টিকা নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নির্দেশনা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জলাতঙ্ক সংক্রমণের ঝুঁকিকে তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করেছে—

ক্যাটাগরি–১:

  • শুধু প্রাণী স্পর্শ করা

  • অক্ষত ত্বকে লালা লাগা
    ➡️ কোনো টিকা বা চিকিৎসার প্রয়োজন নেই।

ক্যাটাগরি–২:

  • ত্বকে আঁচড়

  • ছোটখাটো কামড়, তবে রক্তপাত নেই
    ➡️ ক্ষত পরিষ্কার করে জলাতঙ্কের টিকা নেওয়া প্রয়োজন

ক্যাটাগরি–৩:

  • ত্বক ভেদ করে কামড়

  • গভীর আঁচড় বা রক্তপাত

  • মুখমণ্ডল বা ঘাড়ের কাছে আঘাত
    ➡️ ক্ষত পরিষ্কারের পাশাপাশি টিকা ও ইমিউনোগ্লোবুলিন ইনজেকশন প্রয়োজন।

আঁচড় বা কামড় হলে প্রথম করণীয়

যে কোনো ধরনের ক্ষত হলে দ্রুত নিচের কাজগুলো করতে হবে—

  • সাবান ও প্রবাহমান পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ধরে ক্ষত ধুতে হবে

  • এরপর আয়োডিন বা অ্যান্টিসেপটিক লাগাতে হবে

  • ক্ষত খোলা রাখতে হবে, ব্যান্ডেজ করা উচিত নয়

এই প্রাথমিক পরিষ্কারকরণ জলাতঙ্ক সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেয়।

প্রাণীর লালা যদি আগে থেকে কোনো ক্ষতে লাগে (যেমন—চেটে দেওয়া), তাহলেও একইভাবে পরিষ্কার করে টিকা নিতে হবে। তবে অক্ষত ত্বকে লালা লাগলে শুধু হাত-পা ধুয়ে নিলেই যথেষ্ট।

টিকা ও খরচ

  • বাংলাদেশে সরকারি হাসপাতালে মানুষের জন্য জলাতঙ্কের টিকা বিনামূল্যে পাওয়া যায়

  • প্রাণীদের টিকার খরচ সাধারণত ২০০–৩০০ টাকা

  • কিছু ক্লিনিক পোষা প্রাণীর জন্য ফ্রি র‌্যাবিস টিকা ক্যাম্পেইন আয়োজন করে

মানুষের ক্ষেত্রে—

  • ইন্ট্রাডার্মাল পদ্ধতিতে ৩ ডোজ

  • ইন্ট্রামাসকুলার পদ্ধতিতে ৪ ডোজ

  • ক্যাটাগরি–৩ হলে প্রথম দিনই ইমিউনোগ্লোবুলিন প্রয়োজন

  • সম্ভব হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই টিকা নেওয়া উচিত

আগাম সুরক্ষা জরুরি

গুলশান পেট ক্লিনিকের উদ্যোক্তা ও পেট কাউন্সেলর এসেম জাহান শাম্মী পরামর্শ দিয়েছেন—যারা নিয়মিত প্রাণী লালন-পালনের সঙ্গে যুক্ত বা এ পেশায় আছেন, তারা আগাম সতর্কতা হিসেবে প্রি-এক্সপোজার র‌্যাবিস ভ্যাকসিন নিতে পারেন।

জলাতঙ্ক প্রতিরোধে করণীয়

  • এলাকার সব কুকুর-বিড়ালকে টিকার আওতায় আনা

  • প্রয়োজন অনুযায়ী বন্ধ্যাকরণ

  • স্থানীয় প্রশাসন ও প্রাণী চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ

প্রাণীর প্রতি সহানুভূতিশীল হোন

অকারণে প্রাণীদের উত্ত্যক্ত বা আঘাত করলে তারা প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। শিশুদের এ বিষয়ে সচেতন করা জরুরি। খাবার ও যত্ন দিয়ে প্রাণীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুললে কামড়ানোর ঝুঁকি অনেক কমে।

👉 আতঙ্কিত নয়, সচেতন হোন—জলাতঙ্ক একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আরএনবি নিউজ ২০২৫-২৫
Theme Download From ThemesBazar.Com