সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
৯৩ শিক্ষানবিশ এএসপিকে বদলি রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা-১ আসনের সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম চা শিল্পের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর ধেয়ে আসছে মৌসুমি নিম্নচাপ, বৃদ্ধি পাচ্ছে বাতাসের গতিবেগ এক যুবককে একসঙ্গে বিয়ে করেছেন তিন বোন চিকিৎসার জন্য কোথায় যাবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অক্টোবরে ভারতে খেলতে পারে ব্রাজিল, আলোচনায় বাংলাদেশও বিরামপুর সীমান্তে ৯ নারীকে ‘পুশ-ইন’ চেষ্টার অভিযোগ, প্রতিহত করল বিজিবি সেকেন্ড-হ্যান্ড স্মার্টফোন কেনার আগে যে ৭ বিষয় অবশ্যই যাচাই করবেন সান্তোসের ম্যাচ চলাকালে পোকার টুর্নামেন্টে নেইমার, নেটদুনিয়ায় বিতর্ক

অর্থনীতি, আঞ্চলিক ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র সেতু নির্মাণের দাবি

  • সবশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১০৮ জন সংবাদটি দেখেছেন
ব্রহ্মপুত্র নদে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র আকার ধারণ করেছে নদের ভাঙ্গন। গেন্দার আলগা থেকে তোলা।
ব্রহ্মপুত্র নদে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র আকার ধারণ করেছে নদের ভাঙ্গন। গেন্দার আলগা থেকে তোলা।

কুড়িগ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি—ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর একটি সেতু নির্মাণ। এই সেতু নির্মিত হলে দেশের অর্থনীতি, আঞ্চলিক যোগাযোগ ও জাতীয় নিরাপত্তায় আসবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রহ্মপুত্র সেতু নির্মিত হলে উত্তরাঞ্চলের দরিদ্রতম জেলা কুড়িগ্রামসহ ২০টিরও বেশি জেলার মানুষের জীবনমান বদলে যাবে।

সেতু নির্মিত হলে কী কী লাভ হবে?

ব্রহ্মপুত্রের উপর একটি সেতু হলে দেশের উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগের নতুন অধ্যায় সূচিত হবে। এতে দেশের জ্বালানি তেল সাশ্রয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং পণ্য পরিবহন ব্যয় হ্রাস পাবে।

এছাড়া সেতুটি আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি করে বাংলাদেশকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়সহ নেপাল ও ভুটানের সাথে বাণিজ্য ও যোগাযোগের নতুন সম্ভাবনা এনে দেবে।

রাস্তাঘাট ও সময় সাশ্রয়

বর্তমানে কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকা, সিলেট বা চট্টগ্রাম যেতে হয় সিরাজগঞ্জ হয়ে যমুনা সেতু পার হয়ে।
কিন্তু ব্রহ্মপুত্র সেতু নির্মিত হলে —

  • কুড়িগ্রাম থেকে সিলেটের দূরত্ব প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার কমবে,
  • ঢাকার দূরত্ব ১০০ কিলোমিটার কমে যাবে,
  • জ্বালানি তেল সাশ্রয় হবে প্রতি ট্রিপে ৬৫-৭০ লিটার,
  • এবং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ে উল্লেখযোগ্য হ্রাস ঘটবে।

 স্থানীয়দের অভিমত

রিনি আকতার, এক শিক্ষার্থী বলেন,

“রৌমারী থেকে কুড়িগ্রাম আসতে অনেক কষ্ট হয়। নৌপথে নারী যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। সেতু হলে আমাদের মতো গরিব শিক্ষার্থীরা সহজে পড়াশোনার সুযোগ পাবে।”

মজিবর রহমান, স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,

“রৌমারী-রাজিবপুরের মানুষ অফিস, আদালত বা চিকিৎসার কাজে কুড়িগ্রাম আসতে হলে একদিন আগেই রওনা হতে হয়। ব্রহ্মপুত্র সেতু হলে সময়, অর্থ—দুটোই বাঁচবে এবং ঢাকামুখী চাপও কমে আসবে।”

আব্দুল আজিজ, সাবেক সভাপতি, কুড়িগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি বলেন,

“এই সেতু হলে আন্তঃদেশীয় ও আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়বে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।”

লুৎফর রহমান বকসী, সভাপতি, কুড়িগ্রাম মোটর মালিক সমিতি বলেন,

“ব্রহ্মপুত্র সেতু হলে কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকা ১০০ কিলোমিটার কমে যাবে। এতে তেল সাশ্রয় ও পরিবেশ সুরক্ষা দুই-ই নিশ্চিত হবে।”

প্রফেসর মীর্জা মো. নাসির উদ্দিন, অধ্যক্ষ, কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ বলেন,

“সেতুটি শুধু অর্থনৈতিক নয়, আঞ্চলিক ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের সীমান্তঘেঁষা এই অঞ্চল কৌশলগতভাবে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।”

বিশেষজ্ঞ মত

সেতু বিভাগের বিশেষজ্ঞ দল তিন বছর আগে চিলমারী ও রৌমারী এলাকায় সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করে জানিয়েছিলেন—

  • বলদমারা থেকে ফকিরের হাট পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার এলাইনমেন্ট সবচেয়ে উপযোগী।
  • ৪.৮ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট এবং ৪.২ কিলোমিটার মূল ক্যাবল স্ট্রেইট সেতু তৈরি করা সম্ভব।
  • সেতুর সঙ্গে রেল সংযোগ রাখাও প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব ও সাশ্রয়ী।

অর্থনৈতিক প্রভাব

সেতুটি নির্মিত হলে কুড়িগ্রামে গড়ে উঠতে পারে—

  • শিল্প কারখানা ও ইপিজেড
  • কৃষিপণ্য সংরক্ষণাগার
  • শিল্পের কাঁচামাল উৎপাদন কেন্দ্র
  • আঞ্চলিক ট্রেড হাব

ফলে কুড়িগ্রাম হয়ে উঠবে দেশের উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবেশদ্বার। ব্রহ্মপুত্র সেতু শুধু একটি অবকাঠামো নয় — এটি উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনের স্বপ্ন ও উন্নয়নের প্রতীক। স্থানীয়রা আশা করছেন, বর্তমান অথবা আগামী সরকার দ্রুত এই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেবে।


 

 

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আরএনবি নিউজ ২০২৫-২৫
Theme Download From ThemesBazar.Com