ঘন কুয়াশা ও হাড় কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রংপুরসহ বিভাগের আট জেলার জনজীবন। টানা কয়েক দিন ধরে সূর্যের দেখা না মেলায় এবং হিমেল বাতাসের দাপটে শীতের তীব্রতা বহুগুণে বেড়েছে। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি যে, অনেক স্থানে কাছের বস্তু পর্যন্ত স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না।
তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় খুব প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে হচ্ছে, ফলে সড়কে বাড়ছে ঝুঁকি।
রংপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) ভোর ৬টা পর্যন্ত বিভাগের বিভিন্ন জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে—রংপুরে ১১ দশমিক ৮, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১১ দশমিক ৫, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ১১ দশমিক ২, নীলফামারীর ডিমলায় ১৩ দশমিক ৮, সৈয়দপুরে ১৩, দিনাজপুরে ১২ দশমিক ৭, ঠাকুরগাঁওয়ে ১৩, লালমনিরহাটে ১২ দশমিক ৬ এবং গাইবান্ধায় ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশার ঘনত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত স্থায়ী থাকছে। গত তিন দিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে খুব অল্প সময়ের জন্য। সন্ধ্যার পর থেকে শীতের প্রকোপ আরও বেড়ে যায় এবং রাত গভীর হলে তাপমাত্রা আরও কমে আসে।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান জানান, বছরের শেষ দিকে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে এবং মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে রংপুর বিভাগীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শীতার্ত মানুষের জন্য আট জেলায় কম্বলসহ শীতবস্ত্র সরবরাহ করা হয়েছে এবং বিতরণ কার্যক্রম চলছে।
শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাইরাস জ্বর, নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট ও কোল্ড ডায়রিয়াসহ ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপও বেড়েছে। উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ চিকিৎসাকেন্দ্র রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন শত শত রোগী চিকিৎসা নিতে ভিড় করছেন।
বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. শহীদুল ইসলাম জানান, এ বছর শীতের তীব্রতা তুলনামূলক বেশি। তিনি শিশুদের গরম পোশাক পরানো, অপ্রয়োজনে বাইরে না বের করা এবং ঠান্ডা লাগা থেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।