আরএনবি ডেস্কঃ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম।নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণার পরপরই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভে নামেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সকাল ৯টার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন এলাকায় তারা বিক্ষোভ করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘জকসু আমার অধিকার, শিক্ষার্থীদের অধিকার’, ‘রইস না জকসু? জকসু জকসু’, ‘দালালদের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’—এমন নানা স্লোগান দেন।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরুর কথা থাকলেও বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডাকা হয়। সভা শেষে জকসু নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচন আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন সিদ্ধান্ত জানানো হবে।উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে কলেজ থেকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হওয়ার পর থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়–এ কখনোই জকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন–২০০৫’-এ ছাত্র সংসদ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট ধারা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হয়নি।তবে শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক আন্দোলনের মুখে গত ২৮ অক্টোবর জকসুর নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। এরপর ৫ ডিসেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে প্রশাসন। প্রথমে ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয় ২২ ডিসেম্বর। পরে ভূমিকম্পের কারণে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় তা পিছিয়ে ৩০ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়।নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত নতুন তারিখ ঘোষণা করে জকসু নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন।