ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া থানার ১৪ নম্বর রাজাগাঁও ইউনিয়নের রাজারামপুর গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পাঁচটি পরিবারের অন্তত ২০টি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। আগুনে ঘরবাড়ির সঙ্গে আসবাবপত্র, নগদ অর্থ ও জীবিকা নির্বাহের বিভিন্ন উপকরণ নষ্ট হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো সর্বস্ব হারিয়েছে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পাটিয়াডাঙ্গী বাজারের উত্তর পাশে রাজারামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি কেউ।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো হলো— মো. জহিরুল ইসলাম, মো. ফারুক হোসেন, মো. আবুল হোসেন, মো. কাজল হোসেন ও মো. মোতাহার হোসেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি ঘর থেকে আগুনের শিখা ওঠার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তা আশপাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামটি ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রমজান আলী বলেন, সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ আগুন দেখতে পেয়ে গ্রামবাসী ছুটে আসেন। বালতি ও পানির সাহায্যে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হলেও পর্যাপ্ত সরঞ্জাম না থাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পাঁচটি পরিবারের প্রায় ২০টি ঘর আগুনে পুড়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে একজন ডেকোরেশন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর ঘরে রাখা প্রায় দুই লাখ টাকার বেশি নগদ অর্থসহ ব্যবসার বিভিন্ন সরঞ্জাম আগুনে পুড়ে গেছে। এতে তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, চোখের সামনে সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। ঘরের ভেতরে থাকা কাপড়চোপড়, কাগজপত্র ও টাকা—সব আগুনে নষ্ট হয়েছে। এখন পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে থাকতে হচ্ছে। তবে আগুনের সময় পরিবারের কেউ ঘরের ভেতরে না থাকায় প্রাণহানি না হওয়াটাই একমাত্র স্বস্তির বিষয় বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্বাস আলী বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।
অগ্নিকাণ্ডের পর পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো তাৎক্ষণিকভাবে আশ্রয় ও খাদ্য সংকটে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ত্রাণ সহায়তা এবং আগুনের কারণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।