নীলফামারীর সৈয়দপুর–কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুন অর রশিদ মামুন-এর একটি ভিডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভিডিওতে তাকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও বর্তমান নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করতে দেখা যায়।
ভাইরাল ভিডিওতে মামুন অর রশিদ মামুন আসন্ন নির্বাচনকে পূর্বপরিকল্পিত বলে দাবি করেন এবং বলেন, বর্তমান ব্যবস্থায় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ রাখা হচ্ছে না। তিনি অভিযোগ তোলেন, একটি নির্দিষ্ট পক্ষকে সুবিধা দিতে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সাজানো হচ্ছে।
ভিডিওতে তাকে উত্তেজিত ভঙ্গিতে বক্তব্য দিতে দেখা যায়। তিনি বলেন, এই নির্বাচন নীতি বা আদর্শের প্রতিফলন নয়; বরং এটি ভাগ-বাটোয়ারার মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একইসঙ্গে তিনি জানান, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তিনি নিজ অবস্থান পুনর্বিবেচনা করছেন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি অতীতের রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, পরিবর্তনের আশায় ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলনে অংশ নিলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি গভীরভাবে হতাশ। এ সময় তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-কে পুনরায় দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে আন্দোলনের কথাও উল্লেখ করেন।
নির্বাচন কমিশনকে লক্ষ্য করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতি এতটা অনীহা দেখানো হচ্ছে। তার ভাষ্য, তারা কেবল নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ চান এবং শেষ পর্যন্ত জনগণই সব কিছুর বিচার করবে।
নিজ বক্তব্যের সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কেও মন্তব্য করে মামুন বলেন, কঠোর শাস্তির ঝুঁকি থাকলেও তিনি নিজের অবস্থান তুলে ধরতে পিছপা হবেন না। তার দাবি, নির্বাচন ঘিরে যে পরিকল্পনা করা হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি মুখ খুলতেই থাকবেন।
এই বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নানা প্রতিক্রিয়া ও বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন কিংবা বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন-এর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মামুন অর রশিদ মামুন বলেন, “আমরা নির্বাচন করতে চাই। কিন্তু সে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। রাষ্ট্র কেন আমাদের মনোনয়নের পথ বন্ধ করে রাখছে?