হিমেল বাতাস আর ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গাইবান্ধার গ্রামাঞ্চল। জেলার নিভৃত এক এলাকায় খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন মছির উদ্দিন, নেজাম খাঁ ও শের আলীর মতো পঞ্চাশোর্ধ্ব দিনমজুররা। প্রতিদিনের জীবনসংগ্রামের মধ্যেই হঠাৎ নেমে আসা তীব্র শীতে যেন আরও অসহায় হয়ে উঠেছেন তারা।
শুধু এই তিনজন নন—গাইবান্ধার হাজারো নিম্ন আয়ের মানুষ একই বাস্তবতার মুখোমুখি। নতুন বছরের শুরু থেকেই জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে শৈত্যপ্রবাহ। দিনের পর দিন সূর্যের দেখা নেই, চারপাশ ঢেকে আছে ঘন কুয়াশায়। ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে মারাত্মকভাবে।সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে রাত—সারাক্ষণ কুয়াশার চাদরে আচ্ছাদিত সড়ক, মাঠ ও বসতবাড়ি। অনেক জায়গায় কয়েক হাত দূরের জিনিসও চোখে পড়ে না। কুয়াশা ও ঠান্ডার কারণে মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলছে যানবাহন। গ্রামাঞ্চলে শীত এড়াতে মানুষ শুকনো পাতা, খড়কুটো ও কাঠ জ্বালিয়ে আগুন পোহাচ্ছেন। তবে এতে ধোঁয়ার কারণে বাড়ছে শ্বাসকষ্টসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি।
এই শীতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও ছিন্নমূল পরিবারগুলো। ঠান্ডার কারণে কাজের সুযোগ কমে যাওয়ায় আয়-রোজগারও কমে গেছে। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র না থাকায় অনেকেই কনকনে ঠান্ডার মধ্যেই কাজে নামতে বাধ্য হচ্ছেন শিশু ও বয়স্কদের অবস্থা আরও উদ্বেগজনক। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও বাতব্যথায় ভুগছেন অনেকে।
রিকশাচালক শের আলী (৫৫) বলেন, “একদিন কাজ না করলে ঘরে চুলা জ্বলে না। কিন্তু এই শীতে শরীর কাঁপে, গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে গেছে। এখন খাবার জোটানোই চিন্তা।”
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের শিশু চিকিৎসক ডা. সোহেল জানান, শীতকালে শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি। গরম কাপড় পরানো, ঠান্ডা ও বাসি খাবার এড়িয়ে চলা এবং অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আসিফ উর রহমান বলেন, “শীতের কারণে শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়া এবং মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
এদিকে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, শীত মোকাবিলায় প্রতিটি উপজেলায় কম্বল কেনার জন্য ছয় লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলায় ২২ হাজার ৬০০ কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।