আরএনবি ডেস্কঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একজন প্রবীণ দায়িত্বশীল নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠনকে ঘিরে নিজের দীর্ঘদিনের হতাশা ও মানসিক বেদনার কথা প্রকাশ করেছেন। রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে জামায়াতের তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী ও সংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করা এডভোকেট আব্দুস সালাম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে এসব কথা তুলে ধরেন।
এডভোকেট আব্দুস সালাম দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতে ইসলামীর রুকন ছিলেন। তিনি একসময় পীরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি জেলা শুরা ও কর্মপরিষদের সদস্য ছিলেন এবং ছাত্রশিবির ও উপজেলা জামায়াত গঠনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেও পরিচিত। কিন্তু পাঁচ আগস্টের পর সংগঠনের পক্ষ থেকে কেউ তার খোঁজ না নেওয়ায় তিনি গভীরভাবে কষ্ট পেয়েছেন বলে জানান। ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, পাঁচ আগস্টের দিনের জন্য তিনি দীর্ঘ এক দশক আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করেছেন। অথচ সেই ঘটনার পর সংগঠনের কেউ তার খোঁজ নেয়নি—এটা তিনি কখনো কল্পনাও করেননি। একসময় যে সংগঠনের নেতৃত্বে ছিলেন, সেই পীরগঞ্জ উপজেলা জামায়াত এবং রংপুর মহানগর জামায়াতের বর্তমান নেতৃত্ব তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, পাঁচ আগস্টের পর শুধু তিনি নন, তার মতো আরও কয়েকজন সাবেক জেলা শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য কার্যত দায়িত্বহীন হয়ে পড়েছেন। দীর্ঘদিন সংগঠনের জন্য কাজ করা এসব নেতাকর্মী বর্তমানে অবহেলা ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন। তার ভাষায়, “এক সময় যে জামায়াতকে আপন মনে হতো, আজ সেই সংগঠন আমাদের কাছে অচেনা হয়ে গেছে।” বর্তমান নেতৃত্বের আচরণ নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি লেখেন, অতিরিক্ত জনশক্তি হয়তো দায়িত্বশীলদের মধ্যে অহংকার তৈরি করেছে। বিষয়টি বোঝাতে তিনি হুনাইনের যুদ্ধের উদাহরণ টানেন, যেখানে সংখ্যার গর্ব মুসলমানদের জন্য সাময়িক পরাজয়ের কারণ হয়েছিল। স্ট্যাটাসের শেষ অংশে আব্দুস সালাম সংগঠনের জন্য দোয়া করেন। তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানান, যেন প্রিয় সংগঠন জামায়াতে ইসলামি হেফাজতে থাকে এবং সব পর্যায়ের দায়িত্বশীলরা ডা. শফিকুর রহমান–এর মতো চরিত্রবান হওয়ার তৌফিক লাভ করেন।
উল্লেখ্য, এডভোকেট আব্দুস সালামের এই ফেসবুক পোস্ট ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি করেছে এবং সংগঠনের ভেতরের পুরোনো নেতাকর্মীদের অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এ বিষয়ে সাবেক জামায়াত নেতা এডভোকেট আব্দুস সালাম প্রধানের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও সাড়া পাওয়া যায়নি ।
নিচে জামায়াত নেতা এ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম এর হুবহু ফেসবুক পোস্ট টি তুলে ধরা হলো-
পাচ আগষ্ট পরবর্তি সময়ে আমরা অবহেলিত পরিত্যাক্ত জনশক্তিতে রুপান্তরিত হয়েছি
আব্দুস সালাম প্রধান
বলছিলাম আমার মত জামায়াতে ইসলামীর কিছু পুরোনো রুকনদের কথা।এক সময় ছিলাম উপজেলা আমির।তার পর জেলা শুরা কর্মপরিষদ সদস্য।সংসদ সদস্য প্রার্থী।তাও আবার তিনবার।আরেকবার উপজেলা চেয়াম্যান প্রার্থী।পাচ আগষ্টের দিনটির জন্য দশ বছর আল্লাহর দরবারে অনেক কেদেছি।কিন্ত পাচ আগষ্টের পর এত অবহেলিত হবো ভাবতে পারিনি।জামায়াতে ইসলামী পীরগঞ্জ উপজেলা রংপুর,এক সময় আমি যার আমীর ছিলাম,সেই সংগঠনের কেউ আমার খোজ নেয়নি।পীরগঞ্জ উপজেলা ছাত্র শিবিরের প্রতিষ্ঠাতা,উপজেলা জামায়াতেরও অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলাম।কিন্ত পাচ আগষ্টের পর উপজেলা জামায়াত নেতৃবৃন্দ একটি বারের জন্য আমার খোজ নেয়নি।একই অবস্থা রংপুর মহানগর জামায়াতের।পাচ আগষ্টের পর আমি সহ সাবেক (মহানগর প্রতিষ্ঠার পুর্বেকার ) রংপুর জেলা কর্ম পরিষদ ও শুরা সদস্য হিসাবে বর্তমান মহানগর নেতৃত্তের পক্ষ থেকে ন্যুনতম গুরুত্ব পাইনি।এখন কেউ আমাদের খবর রাখেনা।আমার মত আরো কয়েকজন ভাই দায়ীত্ব শুন্য। পাচ আগষ্ট আমাদের মত কিছু পুরোনো রুকন ও দায়ীত্ব পূর্ন পদে কাজ করা ব্যাক্তির জীবন দূর্বিসহ করে তুলেছে।
এই জামায়াত আমাদের কাছে বড় অচেনা।দুহাজার তেরো সাল পর্যন্ত যে জামায়াতের দায়িত্ব পালন করেছি,সেই সংগঠন পুরোনো ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলেছে।এখনকার নেতা ও দায়ীত্বশীলরা আমাদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে।
সম্ভবতঃ জনশক্তির আধিক্য বর্তমান দায়ীত্বশীল মনে অহমিকায় ফেলে দিয়েছে।হুনাইন যুদ্ধের সময় মুসলমানরা জনশক্তির আধিক্যে গর্বিত হয়ে উঠেছিল।মুসলমানরা ছিল বারোহাজার।শত্রু কাফেররা ছিলো মাত্র চার হাজার।মাত্র চার হাজার তায়েফ বাসীর হাতে যুদ্ধের শুরুতে বারো হাজার গর্বিত মুসলিম বাহীনি পরাস্ত হয়েছিল।রসুলুল্লাহ যুদ্ধের ময়দানে একা দাড়িয়েছিলেন।অবশ্য মুসলমানরা আধিক্যের গর্ব অহঙ্কার থেকে তওবা করে পাল্টা হামলা করলে কাফেররা পরাজিত হয়।
হে আল্লাহ রব্বুল আলামিন আপনি দয়া মেহেরবানী করে আমাদের প্রানপ্রিয় সংগঠন জামায়াতে ইসলামীকে হেফাজত ও কবুল করো।জামায়াতের সকল পর্যায়ের দায়ীত্বশীলদের আমীরে জামায়াত ডাঃ শফিকুর রহমানের মত চরিত্রবান হবার তৌফিক দান করো।