পৌষ মাসের শেষ প্রান্তে এসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। এর সঙ্গে শৈত্যপ্রবাহ যুক্ত হওয়ায় জনদুর্ভোগও বাড়ছে। বৃহস্পতিবার যেখানে দেশের ২৪টি জেলার ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গিয়েছিল, সেখানে শুক্রবার তা কমে ২০ জেলায় সীমিত হয়েছে। তবে এই পরিস্থিতি এখনই কাটছে না। অন্তত জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়—৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার নওগাঁর বদলগাছীতে ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়, যা চলতি শীত মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন।
অন্যান্য অঞ্চলে শুক্রবার চুয়াডাঙ্গা ও পাবনায় ৮ দশমিক ৫, কুড়িগ্রামে ৯, সিরাজগঞ্জে ৯ দশমিক ১, নীলফামারী ও রাজশাহীতে ৯ দশমিক ৪, যশোরে ৯ দশমিক ৫, রংপুরে ৯ দশমিক ৬, কুষ্টিয়া ও দিনাজপুরে ৯ দশমিক ৮ এবং বগুড়ায় ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, নরসিংদী, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়াসহ রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এই দুই বিভাগেই রয়েছে ১৬টি জেলা। সব মিলিয়ে বর্তমানে ২০ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ সক্রিয় রয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শনিবার থেকে আগামী বুধবার পর্যন্ত মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার ও রোববার সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, শৈত্যপ্রবাহ আরও কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে। দু–এক দিনের মধ্যে তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও পরে আবার কমার আশঙ্কা রয়েছে। এতে নতুন কিছু জেলা শৈত্যপ্রবাহের আওতায় আসতে পারে, আবার কিছু জেলা বাদও পড়তে পারে।
এদিকে পঞ্চগড়ে হিমালয় থেকে নেমে আসা হাড়কাঁপানো হাওয়ায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। রাতে ঘন কুয়াশায় সড়ক ও মহাসড়ক ঢেকে যাওয়ায় ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ।
বোদা উপজেলার মন্নাপাড়া এলাকার দিনমজুর মতিয়ার বলেন, ‘এত শীতে কাজ করা খুব কষ্টকর। হাত-পা অবশ হয়ে যায়, কিন্তু কাজ না করলে সংসার চলে না।’
কলেজপাড়া এলাকার ভ্যানচালক ময়নুল জানান, ভোরে কুয়াশার কারণে সামনে কিছুই দেখা যায় না, যাত্রীও কম পাওয়া যায়।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার তালমা এলাকার বাসিন্দা রমজান বলেন, ‘এত ঠান্ডায় কৃষিকাজ বন্ধ হয়ে আছে। বাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে বসে থাকতে হয়।’
বোদার নয়াদীঘি এলাকার নুরনবী জানান, কম্বল থাকলেও শীত পুরোপুরি কাটছে না।