আরএনবি ডেস্কঃ চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় সাবেক স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জন আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ জব্দের আবেদন করেছেন মামলার বাদীপক্ষ। মঙ্গলবার মামলার বাদী মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুমের পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফারুক আহাম্মদ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই আবেদন দাখিল করেন।শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এ বিষয়ে আদেশ অপেক্ষমাণ রাখেন।আদালতে শুনানিকালে আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ বলেন, প্রায় ২৯ বছর ধরে মামলার আসামিরা আদালতে অনুপস্থিত থেকে বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করেছেন। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং আসামিদের গ্রেপ্তার কার্যক্রম জোরদার করতে এজাহারভুক্ত সব আসামির সম্পত্তি জব্দ করা প্রয়োজন। গত বছরের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তাঁর ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম আদালতে এই হত্যা মামলা দায়ের করেন। উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের নিজ বাসভবনে চিত্রনায়ক সালমান শাহ (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর প্রথমে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন তাঁর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরবর্তীতে ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ এনে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করা হয়। তৎকালীন আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করে সিআইডি। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর সিআইডি চূড়ান্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুটিকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করে। পরবর্তী সময়ে ২০০৩ সালে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠানো হলে ২০১৪ সালের আগস্টে সেই তদন্তেও একই মত দেওয়া হয়। সালমান শাহর বাবার মৃত্যুর পর মামলার দায়িত্ব নেন তাঁর মা নীলা চৌধুরী। ২০১৫ সালে তিনি বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দিয়ে নতুন করে তদন্তের আবেদন করেন। আদালতের নির্দেশে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত চালিয়ে ২০২০ সালে আবারও আত্মহত্যার প্রতিবেদন দেয়। এই প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট না হয়ে বাদীপক্ষ পুনরায় নারাজি দিলে ২০২১ সালের অক্টোবরে আসামিদের অব্যাহতি দেন আদালত। তবে ওই আদেশের বিরুদ্ধে দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ৬ষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রিভিশন মঞ্জুর করে নতুন করে হত্যা মামলা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এরপর রমনা মডেল থানা মামলাটি গ্রহণ করে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে যোগসাজশের মাধ্যমে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহকে হত্যা করা হয়।