লালমনিরহাট জেলার দুটি পৃথক সমাবেশে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন থেকে প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। একই দিনে দুই আসনে বড় ধরনের এই যোগদান স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কালীগঞ্জ উপজেলার দলগ্রাম উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় যুবদলের ২৫ জন নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে যোগ দেন। তাঁরা দীর্ঘদিন বিএনপির অঙ্গসংগঠন ছাত্রদল–যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
জামায়াতের লালমনিরহাট–২ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফিরোজ হায়দার লাভলু ফুলের মালা পরিয়ে নতুন সদস্যদের বরণ করেন। যোগদান অনুষ্ঠানে যুবদল সদস্য রেজাউল করিম বলেন, “২০১৩ সালে ছাত্রদলে যুক্ত হয়েছিলাম। কিন্তু বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান ও নীতি আমার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। ন্যায় ও ইনসাফের রাজনীতিতে বিশ্বাস থেকেই জামায়াতে যোগ দিচ্ছি।” রেজাউলের নেতৃত্বে ছাত্রদল ও যুবদলের ২৫ জন সদস্য দল পরিবর্তন করেন।
এর আগে একইদিন বিকেলে লালমনিরহাট–১ (পাটগ্রাম–হাতীবান্ধা) আসনে জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম রাজুর হাতে ফুল দিয়ে বিএনপির স্থানীয় নেতা মো. রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে দহগ্রাম–আঙ্গরপোতা এলাকার অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী জামায়াতে যোগ দেন।
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট ফিরোজ হায়দার লাভলু বলেন, “জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া এবং ন্যায়ভিত্তিক রাজনীতিতে আস্থা রাখেন—এমন যেকোনো মানুষের জন্য জামায়াতের দরজা খোলা।”
একদিনে দুই আসনে বিএনপি থেকে এ ধরনের ব্যাপক যোগদানকে স্থানীয়রা লালমনিরহাটের নির্বাচনি সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।