কুড়িগ্রাম জেলার নদী পরিস্থিতি, বঞ্চনা এবং দুর্নীতির অভিযোগ তুলে নির্বাচনী জনসভায় তীব্র ভাষায় বক্তব্য রাখলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি দাবি করেন, নদী শাসন প্রকল্পে দুর্নীতির কারণে কুড়িগ্রামের নদী নিজেদের স্বাভাবিকতা হারিয়েছে, আর মানুষের দুর্দশা বেড়েছে বহুগুণ।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তৃতায় শফিকুর রহমান বলেন, “কুড়িগ্রামের দুঃখ তিন নদী। বর্ষা এলেই মানুষের বুক কাঁপে। নদীগুলোকে হত্যা করে যেন মরুভূমি বানানো হয়েছে। গত ৫৪ বছরে নদী শাসনের যত বাজেট হয়েছে, সব চোরেরা হজম করে ফেলেছে। ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে তারা।”
তিনি অভিযোগ করেন, বন্যা-ভাঙন ঠেকানোর নামে বছরের পর বছর প্রকল্প হলেও স্থানীয়দের দুর্ভোগ কমেনি, বরং দুর্নীতি বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, “কুড়িগ্রামবাসীকে কথা দিচ্ছি—আল্লাহ যদি সুযোগ দেন, ওদের মুখের ভেতর দিয়ে হাত পেট পর্যন্ত ঢুকিয়ে যা লুট করেছে সবই বের করে আনবো, ইনশাআল্লাহ।”
দেশের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জেলা হিসেবে কুড়িগ্রামের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই কুড়িগ্রাম থেকেই আমাদের উন্নয়ন শুরু হবে। উত্তরবঙ্গকে কৃষি ও শিল্পের রাজধানীতে পরিণত করবো ইনশাআল্লাহ।”
বক্তব্যে তিনি শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “প্রথমে শাহাদাত বরণ করেছিলেন আবু সাঈদ। তাঁর পথ ধরে মুগ্ধসহ একে একে ১৪০০ জন শহীদ হয়েছেন। তাদের রক্তের ঋণ আমরা ভুলবো না।”
তরুণদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, “আমি আগেও বলেছি, এখনও বলছি—যুবকদের হাতে অপমানজনক বেকার ভাতা দেব না। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদেরকে দেশগড়ার কারিগর হিসেবে দাঁড় করাবো।”