মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কৌশলগত অংশীদারত্বে কর্মীদের কল্যাণে নতুন উদ্যোগ আকিজ রিসোর্সের তরুণদের চাকরিপ্রার্থী নয় উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার সমাজকল্যাণমন্ত্রী শক্তি বাড়ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের, বুধবার অন্ধ্র উপকূলে আঘাতের শঙ্কা পীরগঞ্জে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে যুবকের বাড়িসহ তিন বাড়িতে হামলা, গ্রেপ্তার ২ অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে চট্টগ্রামে জামায়াত নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি ২৯ অক্টোবর হচ্ছে না এইচএসসির ফল, নতুন তারিখ ৩১ অক্টোবর ৩৫০ বছর আগে বিলুপ্ত ডোডো পাখি পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনছেন বিজ্ঞানীরা! ১ নভেম্বর চার মাসের বকেয়াসহ বাড়তি বেতন, তবে পাচ্ছেন না সবাই ভুয়া বিলের মাধ্যমে রেলওয়ের ৯৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, দুদকের মামলা ১৪ জনের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ঘিরে পীরগঞ্জে তিন হিন্দু পরিবারের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

মুঘল স্থাপত্য ঐতিহ্যের অনন্য নিদর্শন

চারশ বছরের পুরোনো খান মোহাম্মদ মৃধা মসজিদ

  • সবশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬
  • ২২৬ জন সংবাদটি দেখেছেন
খান মোহাম্মদ মৃধা মসজিদ
খান মোহাম্মদ মৃধা মসজিদ

মাজহাবিন মৌ: চারশ বছরের পুরোনো খান মোহাম্মদ মৃধা মসজিদ রাজধানীর ঐতিহাসিক লালবাগ কেল্লা থেকে মাত্র দেড়শ’ মিটার পশ্চিমে অবস্থিত। এই স্থাপনাটি মুঘল স্থাপত্য ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন।

১৭০৬ খ্রিস্টাব্দে কাজী ইবাদুল্লাহর নির্দেশে খান মোহাম্মদ মৃধা মসজিদটি নির্মিত হয়। ফারসি শিলালিপি থেকে জানা যায়, ঢাকার তৎকালীন ডেপুটি গভর্নর ফারুখসিয়ারের শাসনামলে খান মুহাম্মদ মির্জা নির্মাণকাজে সম্পৃক্ত ছিলেন।

মাটি থেকে প্রায় ১৬ ফুট ৬ ইঞ্চি উঁচু প্ল্যাটফর্মের ওপর দাঁড়িয়ে আছে মসজিদটি। নিচে রয়েছে খিলানযুক্ত তহখানা, যার ছাদই তৈরি করেছে এই উঁচু ভিত্তি। পূর্ব দিক থেকে পঁচিশটি সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হয় মূল নামাজ কক্ষে।

৪৮ ফুট এবং ২৪ ফুট আয়তনের নামাজ কক্ষটি তিনটি গম্বুজে আচ্ছাদিত, মধ্যবর্তী গম্বুজটি বড়, দু’পাশেরটি তুলনামূলক ছোট। কোণায় সরু মিনার, প্যারাপেট বরাবর অলংকৃত মেরলন, আর বহুখাঁজযুক্ত খিলান, সব মিলিয়ে মুঘল স্থাপত্যরীতি এখানে স্পষ্ট।

মসজিদের উত্তর-পশ্চিমে নির্মিত হয়েছিল একটি মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক মাওলানা আসাদুল্লাহর এই শিক্ষাকেন্দ্র একসময় ছিল জ্ঞানচর্চার প্রাণকেন্দ্র।

মসজিদের অভ্যন্তরে দুটি খিলানের মাধ্যমে তিনটি ভাগে বিভক্ত যার প্রতিটি অংশে রয়েছে অলংকৃত মিহরাব। কেন্দ্রীয় খিলান ও মিহরাবের উপরে সংরক্ষিত রয়েছে ফারসি শিলালিপি যা ইতিহাসের মূল্যবান দলিল।

১৯১৩ সালে ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ মসজিদটিকে ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। ১৯৮৯ সালে AKTC ও UNDP পৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকায় আয়োজিত সংরক্ষণ কর্মশালায় এটি কেস স্টাডি হিসেবেও অন্তর্ভুক্ত হয়।

ঐতিহ্যের এই অমূল্য স্থাপনাটি আজও ব্যবহৃত হচ্ছে নামাজ আদায়ে। তবে সময়ের ক্ষয় আর অবহেলার চাপ সামলে কতদিন টিকে থাকবে এই ঐতিহাসিক নিদর্শন সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আরএনবি নিউজ ২০২৫-২৫
Theme Download From ThemesBazar.Com