দেশে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানির সংকট এড়াতে রোববার (৮ মার্চ) থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু হচ্ছে। এ তথ্য জানিয়েছেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
শুক্রবার রাজধানীর পরীবাগ এলাকায় একটি পেট্রোল পাম্প পরিদর্শনের পর তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার রেশনিং ব্যবস্থা চালু করছে এবং এ বিষয়ে পেট্রোল পাম্পগুলোকে লিখিত নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
তবে এরই মধ্যে কিছু পেট্রোল পাম্প নিজেদের মতো করে সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজধানীর বিভিন্ন পাম্পে গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু শনিবার (৭ মার্চ) বলেন, রোববার থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।
তিনি বলেন, “জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। দেশে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে সতর্কতামূলকভাবে রেশনিং ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
মন্ত্রী আরও জানান, আগামী ৯ মার্চ দেশে জ্বালানি তেলবাহী আরও দুটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত পরিমাণ অনুযায়ী পাম্পগুলোতে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। কোনো পাম্প দ্রুত তেল বিক্রি করে ফেললে তাদের পরবর্তী সরবরাহের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। বিষয়টি নজরদারিতে রাখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, রেশনিং ব্যবস্থায় যানবাহনভেদে নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি তেল বিক্রি করা হবে।
বিপিসির নির্দেশনা অনুযায়ী— একটি মোটরসাইকেল দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন নিতে পারবে। ব্যক্তিগত গাড়ি পাবে ১০ লিটার। এসইউভি ও মাইক্রোবাস পাবে ২০ থেকে ২৫ লিটার। পিকআপ ও লোকাল বাস নিতে পারবে ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল। আর দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান বা কনটেইনার ট্রাক দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার ডিজেল নিতে পারবে।
সরকার বলছে, কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত মজুদ ঠেকাতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের নজরদারি জোরদার করা হবে।