মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ০৩:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আদিতমারীতে বাকবিতণ্ডা থেকে সংঘর্ষ, ছুরিকাঘাতে কিশোর নিহত ড. ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার আবেদন খারিজ পীরগঞ্জে মাদক ও জুয়ামুক্ত সমাজ গঠনে সেমিনার অনুষ্ঠিত রোগী হয়রানির অভিযোগে দালালকে দিয়ে ড্রেন পরিষ্কার করালো ছাত্রদল ছয় দফা দাবিতে রংপুরে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি ও মানববন্ধন মিঠাপুকুরে বিষাক্ত অ্যালকোহল পানে ৫ মৃত্যুর ঘটনায় দুই আসামি গ্রেপ্তার নির্বাচিত হওয়ার একদিন পরই বিসিবির পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ মীর শাকরুল আলম সীমান্তের কর্ণফুলী নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার বাজেটের অর্থ অপচয়ের অধিকার কাউকে দেয়নি জনগণ: চরমোনাই পীর সৈয়দপুরে লাশ নিয়ে এলাকাবাসীর থানা ঘেরাও

আজান দিলেই মসজিদে আসে সাপ!

  • সবশেষ আপডেট : শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬
  • ৫০ জন সংবাদটি দেখেছেন

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার পালশা থান্দারপাড়ায় অবস্থিত প্রায় ২৭০ বছরের পুরোনো এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে আছে নানা রহস্যময় গল্প। এলাকাবাসীর দাবি, মুঘল আমলে নির্মিত এই প্রাচীন মসজিদে প্রায়ই ঘটতে দেখা যায় অদ্ভুত কিছু ঘটনা।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মসজিদে আজান শুরু হলেই আশপাশে সাপ দেখা যায়। তবে বিস্ময়কর বিষয় হলো— আজান শেষ হওয়ার পরপরই সাপগুলো আবার অদৃশ্য হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, অনেক সময় গভীর রাতে কিংবা ফজরের আগে মসজিদের ওজুখানার দিক থেকে ওজুর পানির শব্দ শোনা যায়। মনে হয় যেন অনেক মানুষ একসঙ্গে ওজু করছেন, কিন্তু কাছে গিয়ে কাউকে দেখা যায় না।

মসজিদের সাবেক মুয়াজ্জিন আব্দুর রহমান জানান, তিনি নিজেও একাধিকবার এমন ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন। এলাকাবাসীর কাছে বিষয়টি বহুদিনের পরিচিত হলেও বাইরের মানুষের কাছে এটি বেশ বিস্ময়কর।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৭৪৮ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত এই ছোট এক গম্বুজ মসজিদটি মুঘল স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন। সময়ের সঙ্গে আশপাশের পরিবেশে অনেক পরিবর্তন এলেও মসজিদের মূল কাঠামো এখনও প্রায় আগের মতোই রয়েছে।

মসজিদের দীর্ঘদিনের খাদেম আনসার আলী মৃধা বলেন, বহু বছর ধরে তিনি মসজিদটির দেখভাল করছেন। মাঝেমধ্যে গভীর রাতে ওজুর পানির শব্দ শোনার মতো অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথাও শুনেছেন।

এলাকার বাসিন্দা রুহুল কুদ্দুস মাস্টার, ইমরান ও কাবেদ আলী জানান, ছোটবেলা থেকেই তারা এই মসজিদকে ঘিরে নানা গল্প শুনে আসছেন। কারও কাছে এটি অলৌকিক ঘটনা, আবার কেউ মনে করেন এটি প্রাচীন স্থাপনার রহস্যময় পরিবেশেরই অংশ।

স্থানীয়দের মতে, এই মসজিদ শুধু নামাজের স্থান নয়, বরং এলাকাবাসীর বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের প্রতীক। একসময় ছোট এই মসজিদে একসঙ্গে মাত্র সাতজন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারতেন।

বর্তমানে পাশেই একটি নতুন জামে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। তবে পুরোনো মসজিদটি এখনও ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে। অনেকের বিশ্বাস, এখানে মানত করলে মনের আশা পূরণ হয়। তাই স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকেও অনেক মানুষ মসজিদটি দেখতে আসেন।

তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ঐতিহাসিক এই মসজিদটি কিছুটা জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। তারা প্রাচীন কাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখে দ্রুত সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের মতে, যথাযথভাবে সংস্কার করা হলে এটি শুধু ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবেই নয়, পর্যটন আকর্ষণ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© All rights reserved © 2025 rnbnews24
Theme Download From ThemesBazar.Com