‘বাংলাদেশ আমার অহংকার’ এই মূলমন্ত্রকে বুকে ধারণ করে এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) সর্বগ্রাসী মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করে আসছে। মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে র্যাবের প্রতিটি সদস্য সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১৩ এর পৃথক দুইটি অভিযানে দিনাজপুর ও গাইবান্ধা জেলায় বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ চারজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। র্যাব সূত্রে জানা যায়, র্যাব-১৩, সিপিসি-১, দিনাজপুর ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত ১২টা ২০ মিনিটে দিনাজপুর জেলার কোতয়ালী থানার দিনাজপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শেরশাহ বটতলী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ধৃত আসামিদের ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস তল্লাশি করে সিটের সামনে পা রাখার স্থানে সাদা প্লাস্টিকের বস্তার মধ্যে রাখা ১৬ কেজি অবৈধ গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন—পারভেজ শেখ (২৯), পিতা রসমত আলী, মাতা পারুল বেগম, সাং- নিশ্চিন্তপুর ফকিরপাড়া, থানা কোতয়ালী, জেলা দিনাজপুর; আমির হোসেন (৩৫), পিতা মৃত জয়নাল, সাং- কান্দিপাড়া (জান্নার বাড়ি), থানা ভৈরব, জেলা কিশোরগঞ্জ; এবং জলু মিয়া (৪৫) (চালক), পিতা মৃত নাজিম উল্লাহ, সাং- পাহার বর্ষিজোড়া, থানা মৌলভীবাজার, জেলা মৌলভীবাজার।
অপরদিকে, বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে র্যাব-১৩, সিপিসি-৩, গাইবান্ধা ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ৬ নম্বর দরবস্ত ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নামাপাড়া জামে মসজিদের সামনে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ধৃত আসামির হাতে থাকা একটি লাল রঙের শপিং ব্যাগ তল্লাশি করে ২ বোতল এসকাফ ও ৫ বোতল ফেয়ারডিল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় মোঃ লাইজু মিয়া (২৬), পিতা মোঃ রাজ্জাক মিয়া, মাতা মোছাঃ লাকী বেগম, সাং- অভিরামপুর, ওয়ার্ড নং-১, ইউনিয়ন দরবস্ত, থানা গোবিন্দগঞ্জ, জেলা গাইবান্ধা—কে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের কাছে মাদকদ্রব্য বিক্রি ও সরবরাহ করে আসছিল। তারা বিভিন্ন অভিনব কৌশল ব্যবহার করে মাদক পরিবহন ও ব্যবসা পরিচালনা করত।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শেষে জব্দকৃত আলামতসহ সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে র্যাব-১৩ এর গোয়েন্দা তৎপরতা ও চলমান অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।