আন্তর্জাতিক নারী ফুটবলে কোচিং ও নেতৃত্বের জায়গায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিফা। এখন থেকে সংস্থাটির আয়োজিত যেকোনো নারী টুর্নামেন্টে অংশ নিতে হলে প্রতিটি দলের কোচিং স্টাফে অন্তত একজন নারী কোচ থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ফিফা কাউন্সিলের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি দলে একজন নারী হেড কোচ বা সহকারী কোচ থাকতে হবে। যুব ও সিনিয়র—সব ধরনের জাতীয় দল এবং ক্লাব প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রেই এই বিধান প্রযোজ্য হবে।
আগামী সেপ্টেম্বরে পোল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপ থেকে প্রথমবারের মতো এ নিয়ম কার্যকর হবে। পাশাপাশি দ্বিতীয় নারী চ্যাম্পিয়ন্স কাপ, ২০২৭ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত নারী বিশ্বকাপ এবং ভবিষ্যতের নারী ক্লাব বিশ্বকাপেও এই নিয়ম বাস্তবায়ন করা হবে।
ফিফা জানিয়েছে, নারী ফুটবলের দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কোচিং ও নেতৃত্বের জায়গায় নারীদের উপস্থিতি বাড়ানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। সংস্থাটির মতে, বর্তমানে নারী ফুটবলে কোচিংয়ের বেশিরভাগ পদই পুরুষদের দখলে রয়েছে।
২০২৩ সালের নারী বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৩২ দলের মধ্যে মাত্র ১২টি দলের প্রধান কোচ ছিলেন নারী—এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে ফিফা বলছে, পরিস্থিতি বদলাতে কাঠামোগত উদ্যোগ প্রয়োজন।
ফিফার প্রধান ফুটবল কর্মকর্তা ও যুক্তরাষ্ট্র নারী দলের সাবেক কোচ জিল এলিস বলেন, কোচিংয়ে নারীর সংখ্যা এখনও অনেক কম। এই পরিবর্তন ত্বরান্বিত করতে সুযোগ সৃষ্টি ও নারীদের দৃশ্যমানতা বাড়ানো জরুরি।
নতুন এই নিয়মকে ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হিসেবেই দেখছে ফিফা। সংস্থাটির আশা, এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে নারী কোচদের জন্য আরও বড় পরিসর তৈরি হবে এবং নারী ফুটবলের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।