নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যে দলীয় প্রতীক ‘শাপলা’ না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির নেতারা বলছেন, শাপলা শুধু একটি প্রতীক নয়, এটি এনসিপির রাজনৈতিক পরিচয়ের অংশ— তাই এ বিষয়ে আপসের প্রশ্নই ওঠে না।
ইসির সঙ্গে একাধিক বৈঠকেও কোনো সমাধান না মেলায় এনসিপি এখন ঢাকায় বড় রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছে।
গত ১৯ অক্টোবর রাজধানীর নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের সঙ্গে বৈঠক করে এনসিপির চার সদস্যের প্রতিনিধি দল। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ ও যুগ্ম সদস্যসচিব জহিরুল ইসলাম।
বৈঠকের পর হাসনাত আবদুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা বিকল্প কোনো প্রতীক নেব না। শাপলাই আমাদের প্রতীক। আইনগতভাবে ইসি এর বিরোধিতা করতে পারে না। তবে তারা কেন শাপলা বাদ দিয়েছে—এর কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যাও দেয়নি।”
এ সময় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “নির্বাচন কমিশন বলেছে তারা বিজ্ঞপ্তি দেবে। আমরা বলেছি— আমাদের প্রতীক শাপলা, সাদা শাপলা বা লাল শাপলা—এগুলোর যেকোনো একটি দিক। যতদিন শাপলা না দেবে, ততদিন আমরা রাজপথে থাকব।”
দলীয় সূত্রে জানা যায়, এনসিপি শাপলা প্রতীক না পাওয়ার বিষয়টি আদালতে না গিয়ে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করবে। দলের শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, প্রতীক না দেওয়া একটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ—তাই এর জবাবও রাজনৈতিক লড়াইয়ের মাধ্যমেই দিতে হবে।
আগামী সপ্তাহে দলটি ঢাকায় বড় সমাবেশ বা মানববন্ধনের আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর আগে বিভাগীয় পর্যায়ে কর্মীসভা ও সমন্বয় বৈঠক হবে বলেও জানা গেছে।
এনসিপি ২২ জুন ইসির কাছে নিবন্ধনের আবেদন জমা দেয়। দলটি প্রথমে তিনটি প্রতীক প্রস্তাব করেছিল—শাপলা, কলম ও মোবাইল ফোন। পরবর্তীতে ২৪ সেপ্টেম্বর চিঠি দিয়ে জানায়, তারা শুধু শাপলাই চায়। কিন্তু ৩০ সেপ্টেম্বর ইসি দলটিকে জানায়, শাপলা প্রতীক অনুমোদিত তালিকায় নেই, তাই অন্য প্রতীক বেছে নিতে হবে। এরপরও এনসিপি প্রতীক পরিবর্তনে রাজি হয়নি।
দলের নেতারা বলছেন, শাপলাকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত আইনসঙ্গত নয়। কারণ জাতীয় প্রতীকে শাপলা রয়েছে, ফলে এটি নিষিদ্ধ করার কোনো যুক্তি নেই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপি সম্প্রতি তরুণ ভোটারদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেছে। দলটির অবস্থান স্পষ্ট—তারা শাপলা প্রতীককেই কেন্দ্র করে রাজনীতি চালিয়ে যেতে চায়। ফলে প্রতীক নিয়ে অচলাবস্থা রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়াতে পারে।
ইসির সঙ্গে টানাপোড়েন অব্যাহত থাকলে এনসিপি তাদের অবস্থান আরও কঠোর করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এনসিপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, “আমরা আইনি পথে যাব না। রাজনৈতিকভাবেই এই অন্যায় সিদ্ধান্তের জবাব দেব।” আগামী সপ্তাহে দলটির ঢাকা ও বিভাগীয় শহরগুলোয় বড় কর্মসূচির ঘোষণাও আসতে পারে।