সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
৯৩ শিক্ষানবিশ এএসপিকে বদলি রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা-১ আসনের সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম চা শিল্পের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর ধেয়ে আসছে মৌসুমি নিম্নচাপ, বৃদ্ধি পাচ্ছে বাতাসের গতিবেগ এক যুবককে একসঙ্গে বিয়ে করেছেন তিন বোন চিকিৎসার জন্য কোথায় যাবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অক্টোবরে ভারতে খেলতে পারে ব্রাজিল, আলোচনায় বাংলাদেশও বিরামপুর সীমান্তে ৯ নারীকে ‘পুশ-ইন’ চেষ্টার অভিযোগ, প্রতিহত করল বিজিবি সেকেন্ড-হ্যান্ড স্মার্টফোন কেনার আগে যে ৭ বিষয় অবশ্যই যাচাই করবেন সান্তোসের ম্যাচ চলাকালে পোকার টুর্নামেন্টে নেইমার, নেটদুনিয়ায় বিতর্ক

মায়ের দেওয়া ল্যাপটপ বদলে দিল রাহাতের ভাগ্য, এখন মাসে আয় ২ লাখ টাকা

  • সবশেষ আপডেট : শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১১৩ জন সংবাদটি দেখেছেন
বরিশালে বসে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করেন রাহাত হোসেন
বরিশালে বসে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করেন রাহাত হোসেন

বরিশালের মুলাদী উপজেলার প্যাদারহাট গ্রামের তরুণ রাহাত হোসেন তার স্বপ্নের পথে এগিয়ে গেছেন মা দ্বারা উপহার দেওয়া একটি ল্যাপটপের সহায়তায়। ছোট্ট এই যন্ত্রটি শুধু প্রযুক্তি নয়, ছিল রাহাতের মায়ের ত্যাগ এবং পরিশ্রমের প্রতীক। আজ রাহাত ফ্রিল্যান্সিং জগতে নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন এবং তার মাসিক আয় দাঁড়িয়েছে দুই লাখ টাকারও বেশি।

রাহাতের ফ্রিল্যান্সিং যাত্রা শুরু হয় ২০২২ সালে, যখন তিনি ইউটিউব ও গুগলে ডিজিটাল মার্কেটিং ও অনলাইন কাজ শেখার জন্য অনুসন্ধান শুরু করেন। ২০২৩ সালে তিনি স্থানীয় একটি আইটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্সে ভর্তি হন।

পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি ততটা ভালো ছিল না। রাহাতের বাবা দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন এবং ২০২৫ সালের জুলাই মাসে মারা যান। পরিবারের সীমিত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও, রাহাতের মা ৫০ হাজার টাকা জোগাড় করে একমাত্র সন্তানের জন্য একটি আসুস ল্যাপটপ কিনে দেন।

রাহাত বলেন, “এই ল্যাপটপ আমার জীবনের সবচেয়ে বড় উপহার। এটা শুধু একটি যন্ত্র নয়, এটা আমার মায়ের ত্যাগ, আমাদের পরিবারের নতুন শুরুর প্রতীক।”

স্থানীয় কোর্স শেষে রাহাত বুঝতে পারেন, আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটে কাজ করার জন্য আরও দক্ষতা প্রয়োজন। এরপর তিনি স্কিলআপার প্রতিষ্ঠান থেকে ফেসবুক অ্যাডস, গুগল অ্যাডস ও ওয়েব অ্যানালিটিক্সে একটি অ্যাডভান্সড কোর্সে ভর্তি হন।

প্রথম ছয় মাসে ফাইভআর বা আপওয়ার্কে কোনো কাজ পাননি। তবে প্রতিদিন প্রোফাইল অপটিমাইজ করে এবং দক্ষতা বাড়িয়ে অবশেষে এক গ্রাহক ইনস্টাগ্রামে রাহাতের কাজ দেখে সরাসরি অর্ডার দেন। প্রথম দুটি কাজেই রাহাত ৮০ ডলার আয় করেন এবং দুটি ৫-স্টার রিভিউ পান।

এরপর রাহাতের ফাইভআর প্রোফাইল দ্রুত এগিয়ে যায় এবং বর্তমানে তিনি টপ রেটেড সেলার হিসেবে স্বীকৃত।

বর্তমানে রাহাত বরিশাল কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। নিজের আয়ে তিনি নতুন কম্পিউটার ও ম্যাকবুক কিনেছেন, তবে মায়ের দেওয়া প্রথম ল্যাপটপটি এখনও তাঁর সঙ্গী। তিনি নিজের আয় দিয়ে মায়ের জন্য নতুন ফোন কিনেছেন এবং পরিবারের খরচ চালাচ্ছেন।

রাহাত তিনজনের একটি ছোট দল পরিচালনা করছেন, যারা ফেসবুক ও গুগল অ্যাডসের প্রজেক্ট সামলান। তার লক্ষ্য মাসিক আয় ৫ লাখ টাকা এবং একটি বড় ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি গঠন করা। তিনি বলেন,“আমি চাই, আমার এলাকার ছেলেমেয়েরা যেন আমার মতো সংগ্রাম না করে। তারা সুযোগ পেয়ে শেখে এবং বড় কিছু করে দেখায়। আমি তিনজনের টিমকে ১০ জনে উন্নীত করার পরিকল্পনা করছি।”

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আরএনবি নিউজ ২০২৫-২৫
Theme Download From ThemesBazar.Com