আরএনবি অনলাইন ডেস্কঃ
জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে সরকার। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ডিজেল লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা এবং পেট্রোল ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। মধ্যরাত থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে। তবে মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণার পর আবারও উঠেছে পুরোনো প্রশ্ন—দাম বাড়লে কি সংকট কমবে, নাকি পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি থেকেই যাবে?
দাম বাড়ানোর আগের রাতেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল পাম্পে ছিল উপচে পড়া ভিড়। গুলশান, মধ্যবাড্ডা, তেজগাঁও, রমনা, ধানমন্ডি ও নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি চোখে পড়ে।
অনেকেই রাতেই লাইনে দাঁড়িয়ে পরদিন জ্বালানি নেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। এই দৃশ্য এখন যেন নগর জীবনের নতুন বাস্তবতা হয়ে উঠেছে।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মোটরসাইকেল চালক সোহেল বলেন, লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বাড়া বড় বিষয় নয়। তবে দাম বাড়ার পরও যদি ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, সেটিই হবে সবচেয়ে বড় ভোগান্তি।
তার এই বক্তব্যেই স্পষ্ট হয়, সাধারণ ভোক্তাদের মূল উদ্বেগ শুধু দাম নয়, বরং জ্বালানির প্রাপ্যতা এবং সময়ের অপচয়।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মূল্যবৃদ্ধির ফলে কিছুটা চাহিদা কমতে পারে। অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমে গিয়ে সাময়িকভাবে চাপও কিছুটা হ্রাস পেতে পারে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে শুধু দাম বাড়িয়ে সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলে তারা সতর্ক করেছেন।
এদিকে, জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব পড়তে পারে পরিবহন খাতে। এতে বাড়তে পারে ভাড়া, যার প্রভাব গিয়ে পড়বে নিত্যপণ্যের বাজারে। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সংকটের পেছনে রয়েছে সরবরাহ ঘাটতি, দুর্বল বিতরণ ব্যবস্থা এবং আতঙ্কজনিত অতিরিক্ত চাহিদা। তাদের ভাষায়, পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন শুধু দামের প্রতিফলন নয়, বরং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতারই ইঙ্গিত।
বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা তিনটি সম্ভাবনার কথা বলছেন। সরবরাহ দ্রুত বাড়ানো গেলে লাইনের চাপ কমে আসতে পারে। তবে সরবরাহ অপরিবর্তিত থাকলে দাম বাড়লেও পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হবে না, বরং সীমিত জ্বালানির জন্য প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে। আর অনিশ্চয়তা বা গুজব বাড়লে মানুষ অতিরিক্ত জ্বালানি মজুতের দিকে ঝুঁকতে পারে, যা লাইনের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।