ভোটের প্রচারে গিয়ে পরিচয়, সেখান থেকেই প্রেম—আর শেষ পর্যন্ত বিয়ে। এমনই এক ব্যতিক্রমী গল্প তৈরি করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়-এর দুই শিক্ষার্থী রিদুয়ানুল হক ইমন ও মুসলিমা।
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত রাকসু নির্বাচন-এ ছাত্র অধিকার পরিষদ মনোনীত প্যানেল থেকে সহকারী ক্রীড়া সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ইমন। নির্বাচনী প্রচারণার সময়ই মুসলিমার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেই পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব, এরপর ভালো লাগা—অবশেষে তা গড়ায় বিবাহবন্ধনে।
চার মাসের সম্পর্কের পর গত ৭ এপ্রিল পারিবারিক সম্মতিতে রাজশাহীর বিনোদপুর কাজী অফিসে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। পরে ১৭ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়।
জানা গেছে, ইমন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহে। অন্যদিকে মুসলিমা সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং তার বাড়ি বাগেরহাটে।
ইমন জানান, রাকসু নির্বাচনের প্রচারের শেষ দিনে মমতাজ উদ্দীন কলাভবনের সামনে প্রথমবার মুসলিমাকে দেখেন তিনি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের সম্পর্কের শুরু। এরপর চা আড্ডা আর কথোপকথনের মধ্য দিয়ে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে।
একপর্যায়ে পারিবারিকভাবে বিষয়টি জানাজানি হলে উভয় পরিবারের সদস্যরা রাজশাহীতে এসে আলোচনা করেন। প্রথমদিকে কিছু আপত্তি থাকলেও পরে পরিবার সম্মতি দেয়।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে ইমন বলেন, পড়াশোনা শেষ করে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চান তারা। দেশে কিংবা বিদেশে ভালো চাকরির মাধ্যমে একটি স্থিতিশীল জীবন গড়ার লক্ষ্য তাদের।
অন্যদিকে মুসলিমা বলেন, “সবকিছু খুব অল্প সময়ের মধ্যে হলেও অনুভূতিটা গভীর। বন্ধুত্ব থেকে ভালো লাগা—সব মিলিয়ে ইমনকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়া আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া।”