কুড়িগ্রামের রৌমারীতে জমি দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর আবেদনের পর হাইকোর্ট বিতর্কিত জমিতে স্থিতাবস্থা জারি করলেও তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ।
অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলার বন্দবেড় গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় জামায়াত নেতা শঈমি ইমরান হিকিমের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ ওঠে। তিনি উপজেলা জামায়াতের আবু সাঈদ ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক।
ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ জানান, তিনি ১৯৯৩ সালে শাহিনা ওরফে রেহেনা বেগমের কাছ থেকে এসএ রেকর্ড অনুযায়ী সাড়ে ১৩ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। তবে ২০০১ সালে আরএস রেকর্ড সংশোধন না হওয়ায় জমিটি আগের মালিকের নামেই থেকে যায়। এই সুযোগে একই জমি দ্বিতীয়বার বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ।
আজিজের দাবি, পরবর্তীতে শঈমি ইমরান হিকিম ওই জমি দখল করে তার একটি ৩৩ ফুটের দোকানঘর নিয়ন্ত্রণে নেন এবং সেখানে ‘খাদিজা টাইলস’ নামে সাইনবোর্ড টানান। পাশাপাশি জমিতে টিনশেড ঘর নির্মাণ শুরু করেন।
এ ঘটনায় থানায় একাধিকবার অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার না পেয়ে তিনি হাইকোর্টে যান। পরে আদালত জমির ওপর ‘স্থিতাবস্থা’ জারি করেন।
তবে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন আব্দুল আজিজ। তার ভাষ্য, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং তাকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে শঈমি ইমরান হিকিম বলেন, তিনি কাউকে ভয়ভীতি বা হুমকি দেননি। তার দাবি, জমি নিয়ে পূর্বের মামলায় রেহেনা বেগম রায় পেয়েছেন এবং সেই রায়ের ভিত্তিতেই তিনি বৈধভাবে জমি ক্রয় করেছেন।
রৌমারী থানার ওসি কাওসার আলী জানান, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ একাধিকবার ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে বলেছে। তবে সংশ্লিষ্টরা তা মানছেন না। যেহেতু বিষয়টি আদালতের অধীন, তাই ভুক্তভোগীকে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।