দেশজুড়ে চলমান তীব্র গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উচ্চ তাপমাত্রা শুধু অস্বস্তিই নয়, বরং হিট স্ট্রোকসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের জন্য এই সময়টি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু সহজ অভ্যাস পরিবর্তন করলেই এই গরমে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া সম্ভব।
গরমে ঘর শীতল রাখতে সন্ধ্যার পর জানালা খুলে তাজা বাতাস চলাচলের সুযোগ দিতে হবে। দিনের বেলায় সূর্যের তাপ থেকে বাঁচতে জানালা বন্ধ রেখে পর্দা ব্যবহার করা ভালো। অপ্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক ডিভাইস বন্ধ রাখলে ঘরের তাপমাত্রা কিছুটা কম থাকে।
তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকলে ফ্যান ব্যবহার করা যেতে পারে। বেশি গরমে এসি ২৬–২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সেট করে ফ্যানের সঙ্গে ব্যবহার করলে আরাম পাওয়া যায় এবং বিদ্যুৎও সাশ্রয় হয়।
এই সময়ে হালকা রঙের, ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরা সবচেয়ে ভালো। ঠান্ডা পানিতে গোসল এবং শরীর ভেজা কাপড়ে মুছলে আরাম পাওয়া যায়। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি, অন্তত ২–৩ লিটার। প্রস্রাবের রং গাঢ় হলে বুঝতে হবে শরীরে পানির ঘাটতি হয়েছে।
ভাজাপোড়া ও তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। বেশি লবণ, চিনি ও ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় শরীরকে দ্রুত পানিশূন্য করে তুলতে পারে। হালকা ও সহজপাচ্য খাবার এই সময় বেশি উপযোগী।
মাথা ঘোরা, বমিভাব, দুর্বলতা বা বিভ্রান্তি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা কিডনির রোগীরা বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা ও দৈনন্দিন কিছু পরিবর্তনই পারে এই তীব্র গরমে শরীরকে সুরক্ষিত রাখতে।