আরএনবি অনলাইন ডেস্কঃ
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ৪১ দিনে হামে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে ২৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় ৪২টি মৃত্যুর ক্ষেত্রে হাম নিশ্চিত হয়েছে। বাকি ২০৯ শিশু মারা গেছে হামের উপসর্গ নিয়ে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায়ও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫ জন চট্টগ্রাম বিভাগ-এ। এছাড়া ঢাকা বিভাগ-এ ৩ জন, সিলেট বিভাগ-এ ২ জন এবং রাজশাহী বিভাগ-এ ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪১ দিনে দেশে ৪ হাজার ৪৬০ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে ৩০ হাজার ৬০৭ শিশু, যার মধ্যে ২০ হাজার ৪৭৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। এদের মধ্যে ১৭ হাজার ৮১ শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি এবং করোনাকালে অনেক শিশুর টিকা না নেওয়াই এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-ও জানিয়েছে, আক্রান্ত শিশুদের বড় অংশই টিকাবঞ্চিত ছিল অথবা পূর্ণ ডোজ নেয়নি।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা বাতাসের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে এটি বেশি প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘনবসতি ও সচেতনতার অভাবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে মৃত্যুহার বেশি।
এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত ২০ এপ্রিল থেকে দেশে ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে ৮ বিভাগে ৬২ লাখের বেশি এবং ১২টি সিটি করপোরেশনে প্রায় ১০ লাখ ৭২ হাজার শিশু টিকা পেয়েছে।
অন্যদিকে, রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দে হাম-রুবেলায় আক্রান্ত ১০ মাস বয়সী এক কন্যাশিশুর মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থতার অবনতি হলে তাকে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় হাসপাতাল, ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং শেষ পর্যন্ত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-এ নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলছেন, জ্বর, শরীরে লালচে দানা, চোখ লাল হওয়া বা কাশি দেখা দিলে দেরি না করে শিশুকে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে।