ঠাকুরগাঁওয়ে গভীর রাতে কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রসহ ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। ঘণ্টাব্যাপী তাণ্ডবে গাছ উপড়ে পড়া, ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত এবং ফসলের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে আচমকা শুরু হওয়া এই ঝড়ে মুহূর্তেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তীব্র বাতাস, বজ্রপাত এবং দফায় দফায় বৃষ্টির কারণে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে তাণ্ডব।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সদর ও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা। ইতোমধ্যে একাধিক বসতঘর আংশিক ও সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি কৃষকদের ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসল মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে জানা গেছে।
ঝড়ের তীব্রতায় অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে রাতভর অন্ধকারে দুর্ভোগে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। হঠাৎ ঝড় শুরু হওয়ায় কোনো ধরনের প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাননি বলে জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় প্রশাসন ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র নিরূপণে মাঠে কাজ শুরু করেছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত সহায়তা দেওয়া হবে।
ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক আলমগীর কবীর বলেন, শনিবারের ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে কিছু এলাকায় ফসলের ক্ষতি হয়েছিল। রোববার রাতের ঝড়ে সেই ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে।
এর আগের দিন শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালেও জেলায় কালবৈশাখীর তাণ্ডব হয়। ওই ঘটনায় একজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি পরিবারের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কৃষিজমিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়।টানা দুই দিনের ঝড়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৌসুমের এই সময়ে কালবৈশাখীর প্রবণতা বাড়তে পারে—তাই সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।