প্রায় দেড়শ বছরের পুরনো রংপুর রেলওয়ে স্টেশন এখনো দৃশ্যমান উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। বিভাগীয় স্টেশন হওয়া সত্ত্বেও ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়নি। প্রতিদিন হাজারো যাত্রী টিকিট না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েন।
রংপুর থেকে ঢাকাগামী রংপুর এক্সপ্রেস এবং কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৬শ যাত্রী বহন করে। কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে রংপুরের জন্য বরাদ্দ মাত্র ১৫৪টি আসন, আর রংপুর এক্সপ্রেসে ১৯৯টি। এতে চাহিদার ২০ ভাগও পূরণ করা সম্ভব নয়, দাবি করেন যাত্রীরা।
শিক্ষক নূর মোহাম্মদ বলেন, “কাউন্টারে টিকিট নেই, অনলাইনেও যাত্রীদের কষ্ট। সাধারণ মানুষ সহজে টিকিট কেটে নিতে পারে না। আমাদের এই দুর্ভোগ দেখার কেউ নেই।”
স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল হাসান বলেন, “দ্বিতীয় প্ল্যাটফর্মে যাতায়াতের ব্যবস্থা নেই, নেই ফুটওভার ব্রিজ বা যাত্রী ছাউনি। আরও একটি ট্রেন ও বগি বরাদ্দ দিলে সমস্যা কমে যাবে।”
রংপুর রেলওয়ে স্টেশন ১৮৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত, ১৯৪৪ সালে একবার দায়সারাভাবে উন্নয়ন কাজ হয়েছিল। ৮০ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো আধুনিকীকরণ হয়নি, জানান রংপুর বিভাগ উন্নয়ন আন্দোলন পরিষদের আহ্বায়ক ওয়াদুদ আলী।
নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব পলাশ কান্তি নাগ বলেন, “উত্তরের কোটি মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই স্টেশন এখন দুর্ভোগের প্রতীক। ডুয়েল গেজ ডাবল লাইনের সুবিধা থাকলেও রংপুর সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত। দ্রুত আধুনিকীকরণ ও আরও অন্তত দুইটি আন্তঃনগর ট্রেন বরাদ্দ এখন সময়ের দাবি।”
ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “ঢাকাগামী ট্রেনের টিকিট ১০ দিন আগে থেকে অনলাইনে বিক্রি হয়। যেহেতু শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে, রংপুরবাসীর জন্য আলাদা ব্যবস্থা নেই। আমরা সমস্যার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, তারা হয়ত ব্যবস্থা নেবে।”