বাজারে আসছে চিনির বিকল্প এক নতুন ফসল—স্টিভিয়া। ‘চিনি পাতা’ বা ‘মধু পাতা’ নামে পরিচিত এই গাছ দিচ্ছে প্রাকৃতিক মিষ্টতার সমাধান।
এই গাছের মাত্র এক কেজি শুকনো পাতা প্রায় ৪০ কেজি চিনির সমান মিষ্টতা দিতে পারে। চা, কফি, পায়েসসহ নানা খাবারে ইতোমধ্যেই চিনির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে স্টিভিয়া।
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম এলাকায় ১২ শতাংশ জমিতে স্টিভিয়া চাষ করে সফল হয়েছেন কৃষক আব্দুল আলিম। শুধুমাত্র জৈব সার ব্যবহার করে ৪৫ দিন পরপর পাচ্ছেন প্রায় ২৫ কেজি শুকনো পাতা। এই জমি থেকেই তার মাসিক আয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা।
এক শিক্ষকের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্টিভিয়া পাউডার সংগ্রহ করতে ভারতে গিয়ে অনুপ্রাণিত হন তিনি। সেখান থেকেই চারা এনে শুরু করেন এই চাষ। এখন নিজেই চারা উৎপাদন করছেন, কর্মসংস্থান করেছেন স্থানীয় শ্রমিকদের। তার কাছ থেকে চারা কিনে অনেকেই স্টিভিয়া চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্টিভিয়া চাষে রাসায়নিক সার ব্যবহার না করে জৈব সার ব্যবহার করাই উত্তম। পাতার মিষ্টতা চিনির চেয়ে ৩০ থেকে ৪০ গুণ বেশি, পাউডার আকারে ৫০ থেকে ৬০ গুণ, আর নির্যাসে তা ৩০০ থেকে ৪০০ গুণ পর্যন্ত হতে পারে।
নতুন উচ্চমূল্যের ফসল হিসেবে স্টিভিয়াকে জনপ্রিয় করতে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। হেক্টরপ্রতি বছরে ৬ থেকে ৮ লাখ টাকা আয়ের সম্ভাবনা থাকায়—এই ফসল কৃষকদের জন্য হয়ে উঠছে নতুন আশার আলো। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য— স্টিভিয়া হতে পারে নিরাপদ ও কার্যকর বিকল্প।