চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় যে বাড়িতে বিয়ের আনন্দ আয়োজনের প্রস্তুতি চলছিল, সেখানে এখন শুধুই শোক আর আহাজারি। ওমানে গাড়ির এসি থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন একই পরিবারের চার সহোদর ভাই।
নিহতরা হলেন— রাশেদ, শাহেদুল, সিরাজ ও শহিদ। তারা রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বান্দারাজার পাড়া এলাকার মৃত জামাল উদ্দিনের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাতে অসুস্থ বড় ভাই রাশেদকে চিকিৎসকের কাছে নিতে ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকার একটি ক্লিনিকে যান অন্য তিন ভাই। চিকিৎসকের সিরিয়াল পেতে দেরি হওয়ায় তারা গাড়ির ভেতরে এসি চালিয়ে অপেক্ষা করছিলেন।
ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘ সময় গাড়ি বন্ধ অবস্থায় এসি চালু থাকায় ভেতরে বিষাক্ত কার্বন-মনোক্সাইড গ্যাস জমে যায়। এতে চার ভাই অচেতন হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে তাদের মৃত্যু হয়।
মর্মান্তিক ঘটনার আগে এক ভাই তার বন্ধু পারভেজকে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠান। সেখানে তিনি বলেন, “পারভেজ তুরা কোথায়? আমার বদ্দাকে ডাক্তারের কাছে এনেছি, এখন আমরা গাড়ি থেকে নামতে পারছি না… আমাদের চারজনকেও নিয়ে যাও…”। তবে সাহায্য পৌঁছানোর আগেই নিভে যায় চার প্রবাসী ভাইয়ের জীবন।
ওমানে বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার কাউন্সিলর রাফিউল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রাথমিক ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে গাড়ির এসি থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসকেই মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে মরদেহগুলো ওমান পুলিশের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে আগামী রোববার বা সোমবারের মধ্যে মরদেহ দেশে পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছে দূতাবাস।
ঘটনার পর ওমান প্রবাসীদের সতর্ক করে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, দীর্ঘ সময় গাড়ির ভেতরে এসি চালিয়ে বসে থাকলে জানালার গ্লাস সামান্য খোলা রাখা উচিত।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে রাঙ্গুনিয়ার লালানগর এলাকায় গিয়ে দেখা যায় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। চার ছেলের মৃত্যুর খবর পুরোপুরি জানেন না অসুস্থ মা ফরিদা বেগম। পরিবারের একমাত্র জীবিত ভাই এনামও শোকে নির্বাক হয়ে পড়েছেন।
ওমানের চট্টগ্রাম সমিতির সভাপতি মো. ইয়াসিন চৌধুরী এ ঘটনাকে প্রবাস জীবনের অন্যতম বড় ট্র্যাজেডি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।