সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত ২০২৬ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়েছেন Neymar। আর এই বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়ার মাধ্যমে ব্রাজিল ফুটবলের ইতিহাসে এক বিশেষ কীর্তিতে নাম লেখালেন তিনি।
ব্রাজিলের কিংবদন্তি সাত ফুটবলারের মতো এবার চারটি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার গৌরব অর্জন করলেন নেইমার। এর আগে এই তালিকায় ছিলেন Pelé, Cafu ও Ronaldo Nazário-সহ আরও কয়েকজন কিংবদন্তি।
ফুটবলের রাজা খ্যাত পেলে ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৬৬ ও ১৯৭০ বিশ্বকাপে অংশ নেন। মাত্র ১৭ বছর বয়সে বিশ্বকাপে অভিষেক হয় তার। ১৯৫৮ সালের ফাইনালে স্বাগতিক সুইডেনের বিপক্ষে জোড়া গোল করে বিশ্বকে চমকে দেন তিনি। ১৯৭০ বিশ্বকাপ ফাইনালে ইতালির বিপক্ষে গোল করে ব্রাজিলকে জুলে রিমে ট্রফি স্থায়ীভাবে জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
Djalma Santos ছিলেন ইতিহাসের অন্যতম সেরা রাইটব্যাক। ১৯৫৪, ১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৬৬ বিশ্বকাপে খেলেন তিনি। দুইবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া এই ডিফেন্ডারের ক্যারিয়ারে কোনো লাল কার্ড না দেখার বিরল রেকর্ডও রয়েছে।
Castilho ১৯৫০, ১৯৫৪, ১৯৫৮ ও ১৯৬২ বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ছিলেন। যদিও কেবল ১৯৫৪ বিশ্বকাপে মূল গোলরক্ষক হিসেবে খেলেন। অন্য আসরগুলোতে ছিলেন বিকল্প গোলকিপার।
কিংবদন্তি লেফটব্যাক Nilton Santos খেলেছেন ১৯৫০, ১৯৫৪, ১৯৫৮ ও ১৯৬২ বিশ্বকাপে। তাকে সর্বকালের সেরা লেফটব্যাকদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
Emerson Leão ১৯৭০, ১৯৭৪, ১৯৭৮ ও ১৯৮৬ বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ছিলেন। ১৯৭০ সালে মাত্র ২০ বছর বয়সে বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য হন তিনি। পরে ১৯৭৪ ও ১৯৭৮ সালে ব্রাজিলের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক হিসেবে খেলেন।
চারটি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি টানা তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার একমাত্র ফুটবলার Cafu। ১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০০২ ও ২০০৬ বিশ্বকাপে খেলেছেন তিনি। ২০০২ সালে ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কও ছিলেন কাফু।
Ronaldo Nazário অংশ নেন ১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০০২ ও ২০০৬ বিশ্বকাপে। ২০০২ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৮ গোল করে জেতেন গোল্ডেন বুট। দীর্ঘ সময় বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৫ গোলের রেকর্ডও ছিল তার দখলে।
এবার সেই অভিজাত তালিকায় যুক্ত হলেন নেইমার। ব্রাজিলের হয়ে চারটি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া অষ্টম ফুটবলার হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নিলেন এই তারকা ফরোয়ার্ড।