জ্যৈষ্ঠের তপ্ত দুপুরে গাছে গাছে ঝুলছে থোকা থোকা লাল টকটকে রসাল লিচু। চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে পাকা ফলের মিষ্টি সুবাস। তবে এই বাগানের বিশেষত্ব অন্য জায়গায়। এখানে নেই কোনো পাহারা, নেই ফল পাড়ায় বাধা কিংবা পাখি তাড়ানোর জাল।
যে কেউ এসে নিজের হাতে গাছ থেকে লিচু পেড়ে খেতে পারছেন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আলোকদিয়া গ্রামের এই ব্যতিক্রমী লিচু বাগান এখন মানুষের কৌতূহল ও প্রশংসার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রায় ৮ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা ২০০ গাছের এই বিশাল বাগানটি উন্মুক্ত রাখা হয়েছে এলাকাবাসী, দরিদ্র মানুষ, দর্শনার্থী এমনকি পশুপাখির জন্যও।
এই মানবিক উদ্যোগের পেছনে রয়েছেন পাবনা শহরের ব্যবসায়ী ও কৃষিবিদ মোস্তফা জামাল শামীম। তিনি পাবনা কলেজের কৃষি বিষয়ের শিক্ষক এবং শহরের আব্দুল হামিদ সড়কের ‘কিমিয়া সেন্টার’-এর স্বত্বাধিকারী।
প্রায় ১৮ বছর আগে পৈতৃক ও নিজস্ব অর্থায়নে জমি কিনে বাগানটি গড়ে তোলেন তিনি। শুরু থেকেই সিদ্ধান্ত ছিল, এই বাগানের কোনো লিচু বিক্রি করা হবে না।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাগানজুড়ে উৎসবের আমেজ। স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে দূরদূরান্তের দর্শনার্থীরাও আনন্দ নিয়ে গাছ থেকে লিচু পেড়ে খাচ্ছেন। বিশেষ করে শিশু-কিশোর ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছে বাগানটি হয়ে উঠেছে আনন্দের এক অনন্য স্থান।
বাগানের পরিচর্যাকারীরা জানান, মোস্তফা জামাল শামীম কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন যেন কাউকে লিচু খেতে বাধা দেওয়া না হয়। শুধু মানুষই নয়, পাখি ও কাঠবিড়ালিও যেন নিশ্চিন্তে ফল খেতে পারে, সেজন্য বাগানে কোনো জাল বা সীমানাপ্রাচীর ব্যবহার করা হয়নি।