সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আদিতমারীতে বাকবিতণ্ডা থেকে সংঘর্ষ, ছুরিকাঘাতে কিশোর নিহত ড. ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার আবেদন খারিজ পীরগঞ্জে মাদক ও জুয়ামুক্ত সমাজ গঠনে সেমিনার অনুষ্ঠিত রোগী হয়রানির অভিযোগে দালালকে দিয়ে ড্রেন পরিষ্কার করালো ছাত্রদল ছয় দফা দাবিতে রংপুরে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি ও মানববন্ধন মিঠাপুকুরে বিষাক্ত অ্যালকোহল পানে ৫ মৃত্যুর ঘটনায় দুই আসামি গ্রেপ্তার নির্বাচিত হওয়ার একদিন পরই বিসিবির পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ মীর শাকরুল আলম সীমান্তের কর্ণফুলী নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার বাজেটের অর্থ অপচয়ের অধিকার কাউকে দেয়নি জনগণ: চরমোনাই পীর সৈয়দপুরে লাশ নিয়ে এলাকাবাসীর থানা ঘেরাও

যেখানে দুধমা হযরত হালিমা (রা.)-এর স্নেহে বেড়ে উঠেছিলেন বিশ্বনবী ﷺ।

  • সবশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬
  • ৩২ জন সংবাদটি দেখেছেন

এই সেই ধুলোমাখা পাহাড়ি পথ…যে পথে হেঁটেছিলেন ছোট্ট মুহাম্মদ ﷺ। এই সেই নির্জন উপত্যকা…যেখানে দুধমা হযরত হালিমা (রা.)-এর স্নেহে বেড়ে উঠেছিলেন বিশ্বনবী। আজও সেই পাহাড় আছে। আছে ভাঙাচোরা সেই ঘরের চিহ্নও।

কিন্তু প্রশ্ন হলো…মক্কার সম্ভ্রান্ত কুরাইশ পরিবার তাদের সন্তানদের কেন পাঠিয়ে দিতো এই নির্জন মরু উপত্যকায়? আর আজ কেমন আছে মা হালিমার সেই ঘর? চলুন…আজ আমরা ফিরে যাই দেড় হাজার বছর আগের সেই স্মৃতিবিজড়িত পথে। মক্কার ঝলমলে অট্টালিকা পেছনে ফেলে যখন গাড়ি এগোতে থাকে তাইফের দিকে… তখন ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকে প্রকৃতি। রুক্ষ পাহাড়ের বুক চিরে এগিয়ে চলে ধুলোমাখা পথ। আর সেই পথের প্রতিটি ধূলিকণা যেন ইতিহাসের সাক্ষী। কারণ…এই পথ ধরেই একদিন মা হালিমা কোলে করে নিয়ে গিয়েছিলেন ছোট্ট মুহাম্মদ ﷺ-কে।

সৌদি আরব বললেই চোখে ভেসে ওঠে মরুভূমি। কিন্তু তাইফ যেন এক অন্য জগৎ। সবুজ পাহাড়। আঙুরের বাগান। ডালিম, ডুমুর আর শীতল বাতাস। মরুর বুকের এই শান্ত শহরেই কেটেছিল নবিজি ﷺ-এর শৈশবের গুরুত্বপূর্ণ সময়।

পাহাড়ি পথে চলতে চলতে হঠাৎ চোখে পড়ে এক পাল ভেড়া। আর তখনই মনে পড়ে যায়… এই রকম কোনো প্রান্তরেই হয়তো ছোট্ট মুহাম্মদ ﷺ ভেড়া চরিয়েছেন। এই রকম রোদেই হেঁটেছেন। এই রকম ধুলোমাখা পথেই কাটিয়েছেন শৈশব। সেই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

দূরে পাহাড়ের ওপরে দেখা যায় কিছু পাথরের ঘর। লোকমুখে পরিচিত… এটাই মা হালিমার বাড়ি। সেখানে পৌঁছাতে আজও পেরোতে হয় উঁচুনিচু পাহাড়ি পথ। চারদিকে নীরবতা। শুধু পাহাড় আর ইতিহাসের নিঃশব্দ উপস্থিতি। পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছে মনে হয় যেন সময় থেমে গেছে। ভাঙাচোরা পাথরের দেয়াল। পুরোনো কবরের চিহ্ন। আর নিস্তব্ধ এক উঠান। এই উঠানেই হয়তো খেলেছেন বিশ্বনবী ﷺ। এই আকাশের নিচেই বড় হয়েছেন তিনি। ভাবতেই শরীর শিহরিত হয়ে ওঠে।

অনেকেই জানেন না… সে সময় মক্কার সম্ভ্রান্ত পরিবারগুলো সন্তানদের দুধমায়ের কাছে পাঠাতো। কারণ মরুর খোলা পরিবেশে শিশুরা শুদ্ধ আরবি শিখতো।
শরীর হতো শক্ত ও সুস্থ। কিন্তু মা হালিমার জীবন তখন ছিল দারিদ্র্যে ভরা। দুর্বল গাধা। ক্ষুধার্ত উট। অভাব আর দুর্ভিক্ষ। তবুও তিনি এতিম শিশু মুহাম্মদ ﷺ-কে নিজের কোলে তুলে নিয়েছিলেন। আর ইসলামের ইতিহাস বলে… সেই মুহূর্ত থেকেই নেমে আসে বরকত।

মা হালিমার এই বাড়ি শুধু কিছু পাথরের দেয়াল নয়। এটি মুসলিম উম্মাহর আবেগের এক জীবন্ত ইতিহাস। কারণ এই মাটিতেই পড়েছিল প্রিয় নবীর ﷺ ছোট্ট কদম। আজও তাই এই পাহাড়ে দাঁড়ালে মনে হয়… হৃদয়ের একটা অংশ যেন এখানেই থেকে যায়।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© All rights reserved © 2025 rnbnews24
Theme Download From ThemesBazar.Com