হজ বা ওমরাহর সফরে মদিনা শুধু একটি শহর নয়, বরং মুসলমানদের হৃদয়ের গভীর ভালোবাসার কেন্দ্র। এখানেই শায়িত আছেন বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তাই মদিনা সফরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত আমলের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
মসজিদে নববি ইসলামের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ মসজিদ। হাদিসে এসেছে, মসজিদে হারাম ছাড়া অন্য যেকোনো মসজিদের তুলনায় এখানে এক ওয়াক্ত নামাজের সওয়াব এক হাজার গুণ বেশি।
এছাড়া মসজিদের ভেতরে অবস্থিত রওজায়ে জান্নাত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“আমার ঘর ও মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থান জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগান।”
(সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)
মদিনায় অবস্থানকালে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর রওজা মোবারকে সালাম পেশ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমল।
সালাম দেওয়ার সময় তাঁর দুই মহান সঙ্গী হজরত আবু বকর (রা.) এবং হজরত উমর (রা.)-কেও সালাম জানানো সুন্নত।
এ সময় জান্নাতুল বাকি কবরস্থান জিয়ারত করাও উত্তম, যেখানে বহু সাহাবি ও আহলে বাইত সমাহিত রয়েছেন।
মসজিদে কুবা ইসলামের ইতিহাসে প্রথম নির্মিত মসজিদ।
রাসুলুল্লাহ (সা.) নিয়মিত সেখানে যেতেন। তিনি বলেছেন:
“যে ব্যক্তি ঘরে অজু করে মসজিদে কুবায় এসে নামাজ আদায় করবে, সে একটি ওমরাহর সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে।”
(ইবনে মাজাহ)
মদিনা সফরে মসজিদে কুবা জিয়ারত এবং দুই রাকাত নামাজ আদায় একটি বিশেষ ফজিলতপূর্ণ আমল।
ওহুদ পাহাড় ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম স্মৃতিবিজড়িত স্থান।
এখানে শায়িত আছেন শহিদদের নেতা হজরত হামজা (রা.)-সহ বহু সাহাবি। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও ওহুদের শহিদদের কবর জিয়ারত করতেন এবং তাদের জন্য দোয়া করতেন।
মদিনা সফর একজন মুসলমানের জন্য শুধু ভ্রমণ নয়, বরং ঈমানকে নবায়ন করার এক অনন্য সুযোগ। মসজিদে নববিতে নামাজ, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর রওজা মোবারক জিয়ারত, মসজিদে কুবায় ইবাদত এবং ওহুদের শহিদদের স্মরণ একজন মুমিনের হৃদয়ে নববী ভালোবাসাকে আরও গভীর করে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে মক্কা ও মদিনা-র বরকতময় সফরের তাওফিক দান করুন। আমিন।