মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আদিতমারীতে বাকবিতণ্ডা থেকে সংঘর্ষ, ছুরিকাঘাতে কিশোর নিহত ড. ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার আবেদন খারিজ পীরগঞ্জে মাদক ও জুয়ামুক্ত সমাজ গঠনে সেমিনার অনুষ্ঠিত রোগী হয়রানির অভিযোগে দালালকে দিয়ে ড্রেন পরিষ্কার করালো ছাত্রদল ছয় দফা দাবিতে রংপুরে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি ও মানববন্ধন মিঠাপুকুরে বিষাক্ত অ্যালকোহল পানে ৫ মৃত্যুর ঘটনায় দুই আসামি গ্রেপ্তার নির্বাচিত হওয়ার একদিন পরই বিসিবির পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ মীর শাকরুল আলম সীমান্তের কর্ণফুলী নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার বাজেটের অর্থ অপচয়ের অধিকার কাউকে দেয়নি জনগণ: চরমোনাই পীর সৈয়দপুরে লাশ নিয়ে এলাকাবাসীর থানা ঘেরাও

রামিসার বোনের সাক্ষ্য ‘ক্লোজড ডোর’ নেওয়ার আবেদন

  • সবশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬
  • ১৩ জন সংবাদটি দেখেছেন
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় নিহত শিশুর বাবা ও মায়ের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। তবে রামিসার বড় বোন রাইসা আক্তারের বয়স ও মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে তার সাক্ষ্য ‘ক্যামেরায়’ বা ‘ক্লোজড ডোর’ নেওয়ার আবেদন করা হয়। এতে সায় দেন আদালত।

আজ মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ১০টা ৩৫ মিনিট থেকে ১১টা ২৬ মিনিট পর্যন্ত ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে এই সাক্ষ্যগ্রহণ চলে। সাক্ষ্যগ্রহণ উপলক্ষে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে হাজির করা হয়।

​আদালতের কার্যক্রমের শুরুতে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু আসামি সোহেল রানা কাস্টডিতে থাকা অবস্থায় বাইরে কথা বলা নিয়ে আপত্তি জানান এবং মিডিয়ার সামনে যেন সে কথা বলতে না পারে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করলে আদালত পুলিশকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলেন।

​এরপর প্রথম সাক্ষী হিসেবে মামলার বাদী ও রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা সাক্ষ্য দেন। অসুস্থ থাকায় আদালত তাকে চেয়ারে বসে সাক্ষ্য দেওয়ার অনুমতি দেন।

তিনি জানান, ঘটনার দিন সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে বনানী কাকলীতে নিজের অফিসে পৌঁছানো মাত্রই স্ত্রীর ফোন পেয়ে বাসে করে ২৫-৩০ মিনিটে বাসায় আসেন। এসে দেখেন বাসার সামনে লোকজন জড়ো হয়ে আছে।

স্ত্রী জানান, রামিসা অপজিটের ফ্ল্যাটে আটকে আছে। তখন তিনি নিচে দৌড়ে গিয়ে হাতুড়ি এনে প্রায় ২০ মিনিট চেষ্টা করে দরজার লক ভাঙেন। ভেতরে ঢুকে কমন রুমে প্রচুর রক্ত এবং স্বপ্না খাতুনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। পরে স্টিলের খাটের নিচে রামিসার মরদেহ ও বালতির ভেতর খণ্ডিত মাথা দেখতে পান। আসামি সোহেল রানাকে তিনি আগে কখনো দেখেননি বলে জানান। সকাল ১১টায় তার সাক্ষ্য শেষ হয়।
​এরপর সকাল ১১টা ২ মিনিটে দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে রামিসার মা পারভীন আক্তার সাক্ষ্য দেন। তিনি জানান, গত ১৯ মে ঘটনার দিন তিনি রান্না করছিলেন। বড় মেয়ে রাইসা চাচার বাসায় যাওয়ার সময় ছোট মেয়ে রামিসাও যেতে চাইলে তিনি বারণ করেন। পরে বড় মেয়ে একা চলে যায়। এর কিছুক্ষণ পর পাশের ফ্ল্যাট থেকে বাচ্চার চিৎকার শুনতে পান। ৩-৪ মিনিট পর বড় মেয়ে একা ফিরে এসে জানায়, রামিসা চাচার বাসায় যায়নি। তখন চারদিকে ও নিচে খুঁজেও রামিসাকে না পেয়ে তিনতলার ফ্ল্যাটে ধাক্কা দিলে তারা দরজা খোলেনি। দরজার বাইরে একটি জুতা দেখে সন্দেহ হলে প্রতিবেশীদের জড়ো করেন এবং স্বামীকে ফোন দেন। দরজা না খোলায় লক ভেঙে ভেতরে ঢুকে তারা খাটের নিচে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পান। তিনি স্বপ্নাকে দরজা খুলতে বললেও সে খোলেনি এবং পরে শোনেন, রুবেল নামে একজন গ্রিল কেটে পালিয়ে গেছে। সকাল ১১টা ২৬ মিনিটে তার সাক্ষ্য শেষ হয়।

​এরপর মামলার ৩ নম্বর সাক্ষী ও রামিসার বড় বোন রাইসা আক্তারের অপ্রাপ্ত বয়স ও মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে তার সাক্ষ্যগ্রহণ ‘ক্যামেরায়’ (ক্লোজড ডোর) নেওয়ার আবেদন করেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। এতে সায় দেন আদালত।

​উল্লেখ্য, গত ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। গত ১৯ মে দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের ‘বি’ ব্লকের একটি ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার দিনই রামিসার বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলায় মোট ১৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© All rights reserved © 2025 rnbnews24
Theme Download From ThemesBazar.Com