নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে অসম্মান করার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। এ ধরনের অপচেষ্টা হলে প্রয়োজনে আবারও গণঅভ্যুত্থান ঘটবে।
বুধবার দুপুরে আয়োজিত এ সভায় তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধকে আমরা ধারণ করি। মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে যদি কোনো দল বা ব্যক্তি অবস্থান নেয় কিংবা মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করার চেষ্টা করে, তাহলে প্রয়োজনে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে। মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশকে অসম্মান করতে দেওয়া হবে না।”
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, গুলির মুখে দাঁড়িয়েছি। তিনি স্বাধীনতার ঘোষকের সন্তান, এটি আমাদের জন্য গর্বের বিষয়।”
ইশরাক হোসেন অভিযোগ করেন, বিগত ১৭ বছর একটি রাজনৈতিক দল মুক্তিযুদ্ধকে নিজেদের সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহার করেছে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, বর্তমানে আরেকটি দল ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। জনগণ যাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে, তারাই রাষ্ট্র পরিচালনা করবে।”
মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রশ্নে আপস করা হবে না উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা স্বাধীন ভূখণ্ড, পতাকা ও রাষ্ট্র পেয়েছি। তাই মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।”
গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম, গুম-খুন ও নির্যাতনের ঘটনাগুলো ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি করেছে। এ আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছেন এবং জাতীয়তাবাদী দলের নেতাকর্মীরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
অনুষ্ঠানে নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার এটিএম মোশারেফ হোসেনসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।