রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতাল এলাকায় দালালবিরোধী বিশেষ অভিযানে সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে রোগী ও স্বজনদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া আদায় এবং নির্দিষ্ট অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ব্যবহার করতে বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে।
আটকরা হলেন- ওমেদ আলী (২৬), রানা মিয়া (৩৪), রাজু মিয়া (৪০), বিপ্লব মিয়া (২৪), ফরহাদ হোসেন (৪২), আরাফাত হোসেন আপেল (২২) ও মারুফ হোসেন (২৬)।
রংপুর মহানগর পুলিশের (আরপিএমপি) গোয়েন্দা শাখা শনিবার (৭ জুন) দুপুরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে।
আরপিএমপির মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নগরবাসীর জন্য নিরাপদ ও জনবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ। এরই অংশ হিসেবে হাসপাতাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে রোগী ও তাদের স্বজনদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং নির্দিষ্ট অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করতে বাধ্য করার অভিযোগে সাতজনকে আটক করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র হাসপাতালের আশপাশে অবস্থান করে রোগী ও তাদের স্বজনদের বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে অতিরিক্ত ভাড়ায় অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিতে বাধ্য করে আসছিল।
মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, আটক ব্যক্তিরা হাসপাতালে আসা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছিল। তাদের কারণে চিকিৎসাসেবা গ্রহণেও অনেক রোগী ও স্বজনকে ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। চিকিৎসাসেবার মতো মানবিক খাতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অবৈধ সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগী হয়রানি ও অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগে আকতার হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে ধরে ড্রেন পরিষ্কার করানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, শুক্রবার (৬ জুন) রাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে তাকে দিয়ে ড্রেনের ময়লা পরিষ্কার করানো হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি হাত দিয়ে ড্রেনের ময়লা তুলে পরিষ্কার করছেন।
তবে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো অভিযোগ থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়াই যথাযথ প্রক্রিয়া।