নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন কিয়ার স্টারমার। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক চাপ, দলীয় অসন্তোষ এবং জনপ্রিয়তা হ্রাসের প্রেক্ষাপটে সোমবার (২২ জুন) তিনি এ ঘোষণা দেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট থেকে বের হয়ে জনসম্মুখে পদত্যাগের ঘোষণা দেন স্টারমার। একই সঙ্গে তিনি ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য একটি সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়ার আশ্বাস দেন।
তার পদত্যাগের ফলে লেবার পার্টির অন্যতম প্রভাবশালী নেতা ও গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র Andy Burnham-এর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ অনেকটাই উন্মুক্ত হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে বড় জয় পেয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন স্টারমার। সে সময় তিনি যুক্তরাজ্যের দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে দায়িত্ব গ্রহণের দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করায় সেই লক্ষ্য পূর্ণতা পেল না।
গত কয়েক মাস ধরে তার নেতৃত্ব নিয়ে দলীয় ভেতরে অসন্তোষ বাড়ছিল। বিশেষ করে সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির খারাপ ফলাফল এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ উপনির্বাচনে অ্যান্ডি বার্নহামের জয়ের পর স্টারমারের ওপর চাপ আরও বেড়ে যায়।
রয়টার্স জানিয়েছে, নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে শিগগিরই এবং সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন।
স্টারমারের বিদায়ের মধ্য দিয়ে ব্রেক্সিট-পরবর্তী এক দশকে যুক্তরাজ্য তার সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে, যা দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।