তিস্তার পানি আবারও বিপৎসীমার ওপরে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
সবশেষ আপডেট :
মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬
৫৭
জন সংবাদটি দেখেছেন
উজানের ঢল ও কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাতে কুড়িগ্রামের তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ভারী বৃষ্টি এবং ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের সব গেট খুলে দেওয়ায় তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট সার্বক্ষণিক খুলে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
পাউবো সূত্র জানায়, আগামী দুই থেকে তিন দিন ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকতে পারে। এতে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী ও গাইবান্ধা জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের চর গতিয়াশাম এলাকার কৃষক ছাবেদ আলী বলেন, “তিস্তা তীরবর্তী এলাকার অনেক রাস্তাঘাট ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে।”
বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের কালিরমেলা এলাকার কৃষক রব্বানী অভিযোগ করে বলেন, “শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট থাকলেও গজলডোবা ব্যারাজের গেট বন্ধ রাখা হয়। আবার বন্যার সময় সব গেট খুলে দেওয়ায় আমাদের দুর্ভোগ বাড়ে।”
একই এলাকার কৃষক ফয়জার আলী জানান, বাদামক্ষেত তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি আগাম ফসল তুলে নিয়েছেন। তবে পাটক্ষেত ও বিভিন্ন সবজিক্ষেতে ইতোমধ্যে পানি ঢুকে পড়েছে।
নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে তিস্তা তীরবর্তী চরাঞ্চলের বাসিন্দারা বন্যা আতঙ্কে দিন পার করছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন শুরু হওয়ায় ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, জেলার অধিকাংশ নদ-নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে থাকলেও নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
তিনি বলেন, “আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।”