রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ইটাকুমারী জমিদারবাড়িতে দাঁড়িয়ে আছে আড়াই শ বছরের পুরোনো একটি কাঠগোলাপ গাছ। দীর্ঘ সময়ের সাক্ষী হয়ে আজও এই গাছটি ফুলে ভরে ওঠে। স্থানীয়রা একে উত্তরাঞ্চলের ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে মনে করেন।
গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে ফোটে কাঠগোলাপ। সাধারণত এটি ৮ থেকে ১০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়, তবে ইটাকুমারীর গাছটির উচ্চতা তার চেয়ে অনেক বেশি। সাদা ও হলুদ রঙের মিশ্র ফুলে ভরা এই গাছটির বয়স সম্পর্কে স্থানীয়রা বলেন, এটি প্রায় আড়াই শ বছর আগের।
ইতিহাসবিদদের মতে, জমিদার শিবচন্দ্র রায় মোগল ও আধুনিক স্থাপত্যে রাজবাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন। রাজবাড়ির পশ্চিম পাশে থাকা এই গাছটি সে সময় লাগানো হয়েছিল। জমিদার শিবচন্দ্র ছিলেন ইংরেজবিরোধী প্রজা বিদ্রোহের অন্যতম নেতা।
ইটাকুমারী শিবচন্দ্র রায় কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও আন্দোলনের নেতা নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, “অষ্টাদশ শতকের আগে কোচবিহার থেকে শিবচন্দ্রের পরিবার এখানে জমিদারি প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁদের বংশে এই কাঠগোলাপ গাছটি লাগানো হয়। এত পুরোনো ও বিশাল কাঠগোলাপ বাংলাদেশে আর কোথাও নেই। ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের স্বার্থে রাজবাড়ি ও গাছটি রক্ষায় সরকারি উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।”
রংপুর বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন বলেন, “আমার জানা মতে, এটি দেশের সবচেয়ে পুরোনো ও বৃহত্তম কাঠগোলাপ গাছ। আমি একাধিকবার পরিদর্শনে গিয়েছি। ধারণা করা হয়, এর বয়স আড়াই শ বছরের বেশি।”
স্থানীয় ইতিহাসপ্রেমী ও পর্যটকরা নিয়মিত এই গাছ ও জমিদারবাড়ি দেখতে আসেন। সময়ের সাক্ষী হয়ে আজও কাঠগোলাপটি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, যেন অতীতের গল্প বলে চলে প্রতিদিন।