দিনাজপুর শহরের পুলহাট থেকে ভারতীয় সীমান্তবর্তী খানপুর পর্যন্ত প্রায় ১১ কিলোমিটার সড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করেছে সড়ক বিভাগ। রোববার (২ নভেম্বর) সকাল থেকে বুলডোজার নিয়ে অভিযান শুরু হয়।
উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকেই অনেক স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী ক্ষতির আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে গণবিজ্ঞপ্তি জারির পর কয়েক দিন আগেই অনেকে নিজ উদ্যোগে স্থাপনা ভেঙে মালামাল সরিয়ে নিয়েছেন।
দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, উচ্ছেদ অভিযানে প্রায় এক হাজার জমির মালিক ও দুই হাজার দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। এতে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
চেম্বারের সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “দিনাজপুর থেকে খানপুর পর্যন্ত সড়কে উচ্ছেদ কার্যক্রমের গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। তবে কোন জমি কতটুকু অংশ উচ্ছেদ হবে, বা কোন সার্ভে দাগ অনুযায়ী অভিযান চলবে—এসব বিষয়ে সড়ক বিভাগ কোনো স্পষ্ট তথ্য দেয়নি।”
তিনি আরও জানান, ১৯৪২ সালের গেজেট অনুযায়ী যে জমিগুলো অধিগ্রহণ করা হয়েছিল, সেগুলোর রেকর্ডভুক্তকরণ ও হালনাগাদ এখনো সম্পন্ন হয়নি। এ সময়ের মধ্যে জমিগুলো ক্রয়-বিক্রয় ও নামজারি সম্পন্ন হয়েছে, অনেকের বৈধ দলিলও রয়েছে।
চেম্বার অব কমার্সের দাবিতে বলা হয়, ২০০২ সালে একই এলাকায় উচ্ছেদ নোটিশ দেওয়া হলে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালত শুনানি শেষে উচ্ছেদ কার্যক্রমে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন, যা এখনো বহাল আছে। এসব নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নতুন করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি আদালত অবমাননার শামিল বলেও দাবি করেন তারা।
এ বিষয়ে দিনাজপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “যে জমিগুলোতে অভিযান চলছে, সেগুলো ১৯৪২ সালে সরকারিভাবে গেজেটভুক্ত হয়েছে। সুতরাং এগুলোর মালিকানা দাবির সুযোগ নেই। উচ্ছেদ অভিযান ২ ও ৩ নভেম্বর চলবে, যা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পরিচালিত হচ্ছে।”