সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১০:১২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
৯৩ শিক্ষানবিশ এএসপিকে বদলি রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা-১ আসনের সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম চা শিল্পের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর ধেয়ে আসছে মৌসুমি নিম্নচাপ, বৃদ্ধি পাচ্ছে বাতাসের গতিবেগ এক যুবককে একসঙ্গে বিয়ে করেছেন তিন বোন চিকিৎসার জন্য কোথায় যাবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অক্টোবরে ভারতে খেলতে পারে ব্রাজিল, আলোচনায় বাংলাদেশও বিরামপুর সীমান্তে ৯ নারীকে ‘পুশ-ইন’ চেষ্টার অভিযোগ, প্রতিহত করল বিজিবি সেকেন্ড-হ্যান্ড স্মার্টফোন কেনার আগে যে ৭ বিষয় অবশ্যই যাচাই করবেন সান্তোসের ম্যাচ চলাকালে পোকার টুর্নামেন্টে নেইমার, নেটদুনিয়ায় বিতর্ক

জামায়াত এমপির প্রকল্প বরাদ্দে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

  • সবশেষ আপডেট : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬
  • ৬৫ জন সংবাদটি দেখেছেন

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমিনের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের প্রকল্প সভাপতি নিয়োগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। টেস্ট রিলিফ (টিআর), কাবিটা ও কাবিখা কর্মসূচির একাধিক প্রকল্পে তার ভাগ্নে, ভগ্নিপতি ও অন্যান্য নিকট আত্মীয়দের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে এমপির অনুকূলে টিআর খাতে ৩০ লাখ টাকা, কাবিটা খাতে ২৫ লাখ টাকা এবং কাবিখা কর্মসূচির আওতায় ৪০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ বরাদ্দের বিপরীতে টিআরের ১৪টি, কাবিটার ১১টি এবং কাবিখার ৫টিসহ মোট ৩০টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য দাখিল করা হয়।

সরেজমিনে উপজেলার ৯ নম্বর সদর ইউনিয়নের তুলারামপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, এমপির বিশেষ বরাদ্দের দুটি প্রকল্পের কাজ চলছে। এর মধ্যে কাবিখা কর্মসূচির আওতায় ১০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দে ইয়াকুব আলীর বাড়ির সামনে ওয়াক্তিয়া নামাজঘরের উন্নয়ন ও মাঠে মাটি ভরাট প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে ইয়াকুব আলীকে। তিনি সম্পর্কে এমপির ভগ্নিপতি (চাচাতো বোনের স্বামী)।

এ ছাড়া একই গ্রামের ইয়াকুব আলীর বাড়ি থেকে মশফিকের বাড়িগামী রাস্তা সলিং, পুকুরপাড়ে গাইডওয়াল নির্মাণ ও মাটি ভরাট প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে ইয়াকুব আলীর ছেলে সালমান শরিফ শাওনকে, যিনি এমপির ভাগ্নে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আরও কয়েকটি প্রকল্পেও এমপির নিকট আত্মীয় ও দলীয় নেতাকর্মীদের সভাপতি করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মুকুল মিয়া বলেন, একই ওয়াক্তিয়া নামাজঘরের জন্য আগে প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। আবারও একই স্থানে বরাদ্দ দিয়ে আত্মীয়দের সভাপতি করায় প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

একই গ্রামের মঞ্জু মিয়া অভিযোগ করেন, গ্রামের পুরোনো জামে মসজিদের উন্নয়নের জন্য আবেদন করা হলেও সেখানে বরাদ্দ না দিয়ে আত্মীয়দের প্রকল্প দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্প সভাপতি ইয়াকুব আলী বলেন, “প্রকল্পে কত টাকা বা কী বরাদ্দ রয়েছে, তা আমি জানি না। অফিস থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে, তাই কাজ করছি।”

সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমিনের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি “পরে কথা হবে” বলে ফোন কেটে দেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল আজিজ বলেন, অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, “কাজ না করে টাকা তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্তে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হয়নি।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আরএনবি নিউজ ২০২৫-২৫
Theme Download From ThemesBazar.Com