কুড়িগ্রামে দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, ৭২ ঘণ্টার বন্যা সতর্কতা
সবশেষ আপডেট :
সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬
৪৪
জন সংবাদটি দেখেছেন
উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টির প্রভাবে কুড়িগ্রামের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বাড়ছে। এর মধ্যে দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে তিস্তা, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর পানিও বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
সোমবার (২৯ জুন) সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমার নদীর পানি ২৯ দশমিক ৮৩ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে, যা বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ সময় ওই এলাকায় ১৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মাত্র তিন ঘণ্টায় নদীর পানি আরও ৭ সেন্টিমিটার বেড়েছে।
ধরলা নদীর কুড়িগ্রাম পয়েন্টে পানি ২৫ দশমিক ৪৫ মিটার, যা বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। তালুক শিমুলবাড়ী পয়েন্টে পানি ৩০ দশমিক ৪৭ মিটার, যা বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুড়িগ্রাম শহরে ৮২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সোমবার সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি নুনখাওয়া পয়েন্টে ২ সেন্টিমিটার, হাতিয়া পয়েন্টে ২ সেন্টিমিটার এবং চিলমারী পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সব পয়েন্টেই পানি এখনও বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। চিলমারী এলাকায় এ সময় ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
এদিকে তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে পানি ২৫ সেন্টিমিটার বেড়ে সকাল ৯টায় ২৯ দশমিক ২৫ মিটারে পৌঁছেছে। এটি বিপৎসীমার মাত্র ৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কাউনিয়া এলাকায় ৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, উজানের ঢলের কারণে দুধকুমার নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। অন্যান্য নদীর পানিও বাড়ছে। বন্যা পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী ৭২ ঘণ্টায় নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।