মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২:৪০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
৯৩ শিক্ষানবিশ এএসপিকে বদলি রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা-১ আসনের সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম চা শিল্পের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর ধেয়ে আসছে মৌসুমি নিম্নচাপ, বৃদ্ধি পাচ্ছে বাতাসের গতিবেগ এক যুবককে একসঙ্গে বিয়ে করেছেন তিন বোন চিকিৎসার জন্য কোথায় যাবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অক্টোবরে ভারতে খেলতে পারে ব্রাজিল, আলোচনায় বাংলাদেশও বিরামপুর সীমান্তে ৯ নারীকে ‘পুশ-ইন’ চেষ্টার অভিযোগ, প্রতিহত করল বিজিবি সেকেন্ড-হ্যান্ড স্মার্টফোন কেনার আগে যে ৭ বিষয় অবশ্যই যাচাই করবেন সান্তোসের ম্যাচ চলাকালে পোকার টুর্নামেন্টে নেইমার, নেটদুনিয়ায় বিতর্ক

তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে পাঁচ জেলায় গণসমাবেশ ও আলোর মিছিল

  • সবশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬
  • ৪২ জন সংবাদটি দেখেছেন

তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে তিস্তা নদীর দুই তীরবর্তী পাঁচ জেলার আটটি স্থানে গণসমাবেশ ও আলোর মিছিল করেছে তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করায় তাকে অভিনন্দন জানিয়ে এবং প্রকল্পটির দ্রুত একনেক অনুমোদন ও সময়বদ্ধ বাস্তবায়ন রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

বুধবার (১ জুলাই) সন্ধ্যায় রংপুর, গাইবান্ধা, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের তিস্তা তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় একযোগে গণসমাবেশ ও আলোর মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাবাজার এলাকার আলীবাবা থিম পার্ক-সংলগ্ন তিস্তাপাড়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে ঘোষণা দিয়েছেন যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার কাজ করবে। এ ঘোষণাকে তিস্তাপাড়ের মানুষ আশাবাদের সঙ্গে গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা শুধু একটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প নয়; এটি নদীভাঙন প্রতিরোধ, নদী খনন, শাখা-উপনদী পুনরুজ্জীবন, কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নৌযোগাযোগ, পরিবেশ সংরক্ষণ, শিল্পায়ন এবং আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণের একটি সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ।

নজরুল ইসলাম হক্কানী আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিস্তাপাড়ের মানুষ নানা প্রতিশ্রুতি শুনে আসছে। এখন তারা প্রতিশ্রুতি নয়, প্রকল্প বাস্তবায়নের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চায়। তাই দ্রুত একনেক অনুমোদন এবং পদ্মা সেতু প্রকল্পের মতো একটি নির্দিষ্ট বাস্তবায়ন রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানানো হচ্ছে।

সমাবেশ শেষে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে মশাল প্রজ্বালনের মাধ্যমে আলোর মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সংগঠনের স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলমগীর কবির, বাবুল আক্তার, আশিকুর রহমান, ববিউল ইসলাম, স্থানীয় সংগঠক আব্দুস ছাত্তার, জিয়াউর কামরুজ্জামান ও রফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন ইঞ্জিনিয়ার শেখ রেজওয়ান।

সংগঠনের নেতারা বলেন, ‘পদ্মা হলে তিস্তা নয় কেন’ স্লোগানে জুন মাসজুড়ে নিজস্ব অর্থায়নে সভা-সমাবেশ, লিফলেট বিতরণ, হাটসভা, উঠান বৈঠক, বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষণার বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে দ্রুত প্রকল্পটির অনুমোদন ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হবে।

একই দাবিতে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আউলিয়ার বাজার, নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার শৈলমারী ও বানপাড়া, কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বুড়িরহাট এবং উলিপুর উপজেলার হোকোডাঙা তিস্তাপাড়েও পৃথক কর্মসূচি পালিত হয়। এসব কর্মসূচিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমান বলেন, জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি তিস্তা অববাহিকার মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এখন সেই আশাকে বাস্তবে রূপ দিতে দ্রুত একনেক অনুমোদন, অর্থায়ন নিশ্চিতকরণ এবং বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা প্রয়োজন।

ছয় দফা দাবি কর্মসূচি থেকে সংগঠনটি ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেছে। দাবিগুলো হলো—

১. তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত একনেক অনুমোদন ও সময়বদ্ধ বাস্তবায়ন রোডম্যাপ ঘোষণা।
২. নদী প্রকৌশলী, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ও আন্দোলনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ‘তিস্তা কর্তৃপক্ষ’ গঠন।
৩. দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগ।
৪. সরকারি ব্যবস্থাপনায় ‘তিস্তা বন্ড’ চালু এবং বালু-পাথর বিক্রির আয় প্রকল্পে বিনিয়োগ।
৫. ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।
৬. প্রকল্পের আওতায় পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চল, কৃষি অঞ্চল, সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা স্থাপন।

তিস্তা অববাহিকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী দিনেও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময়সহ ধারাবাহিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আরএনবি নিউজ ২০২৫-২৫
Theme Download From ThemesBazar.Com