সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১:২৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
৯৩ শিক্ষানবিশ এএসপিকে বদলি রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা-১ আসনের সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম চা শিল্পের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর ধেয়ে আসছে মৌসুমি নিম্নচাপ, বৃদ্ধি পাচ্ছে বাতাসের গতিবেগ এক যুবককে একসঙ্গে বিয়ে করেছেন তিন বোন চিকিৎসার জন্য কোথায় যাবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অক্টোবরে ভারতে খেলতে পারে ব্রাজিল, আলোচনায় বাংলাদেশও বিরামপুর সীমান্তে ৯ নারীকে ‘পুশ-ইন’ চেষ্টার অভিযোগ, প্রতিহত করল বিজিবি সেকেন্ড-হ্যান্ড স্মার্টফোন কেনার আগে যে ৭ বিষয় অবশ্যই যাচাই করবেন সান্তোসের ম্যাচ চলাকালে পোকার টুর্নামেন্টে নেইমার, নেটদুনিয়ায় বিতর্ক

দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে ৬ টুকরো করে হত্যার দায়ে স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড

  • সবশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৭ জন সংবাদটি দেখেছেন

ঢাকার মহাখালীর বহুল আলোচিত হত্যা মামলায় স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ ৬ টুকরা করার দায়ে স্ত্রী ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকার ষোড়শ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নাজমুন নাহার নিপু এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পী নিহত ময়না মিয়ার প্রথম স্ত্রী।

রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর খন্দকার শফি নেওয়াজ নাসির জানান, হত্যার দায়ে ফাতেমাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি লাশ গুমের অপরাধে তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাহিমুল করিম আকন্দ জানান, রায় ঘোষণার সময় আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৩০ মে রাতে ঢাকার মহাখালীর আমতলী এলাকা থেকে একটি ড্রামের ভেতর মাথাবিহীন এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই রাতে মহাখালী বাস টার্মিনালের এনা কাউন্টারের সামনে একটি ব্যাগ থেকে উদ্ধার করা হয় খণ্ডিত দুই হাত ও দুই পা। পরদিন আরও অনুসন্ধানে মরদেহের বাকি অংশ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার রহস্য উদঘাটনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগ তদন্ত শুরু করে এবং মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে ফাতেমাকে গ্রেপ্তার করে।

তদন্তে জানা যায়, পারিবারিক কলহ, অর্থনৈতিক বিরোধ এবং স্বামীর একাধিক বিয়ে নিয়ে বিরোধের জেরে ফাতেমা পরিকল্পিতভাবে অটোরিকশাচালক স্বামী ময়না মিয়াকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করেন। পরে তাকে হত্যা করে মরদেহ ৬ টুকরা করেন।

এরপর মরদেহের বিভিন্ন অংশ আলাদা ব্যাগ ও ড্রামে ভরে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন। মাথার অংশ গুলশান লেকে ফেলে দেওয়ার কথাও তদন্তে উঠে আসে।

ঘটনার পর নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী নাসরিন ১ জুন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় হত্যা মামলা করেন।

পরে তদন্ত কর্মকর্তা ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর ফাতেমার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ২০২৩ সালের ১২ মার্চ অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে ২৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন।

আত্মপক্ষ সমর্থনে ফাতেমা নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত তাকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড এবং লাশ গুমের দায়ে পৃথক সাজা প্রদান করেন।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আরএনবি নিউজ ২০২৫-২৫
Theme Download From ThemesBazar.Com