২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দায়িত্ব পালন করা পুলিশ ক্যাডারের ৩৩ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। অবসরপ্রাপ্ত এসব কর্মকর্তা বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ২০তম ব্যাচের সদস্য এবং নির্বাচনের সময় বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) ও পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
রোববার (৫ জুলাই) রাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারা অনুযায়ী জনস্বার্থে তাদের অবসর প্রদান করা হয়েছে। আইনের এ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারীর চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হলে সরকার জনস্বার্থে কারণ দর্শানো ছাড়াই তাকে অবসরে পাঠাতে পারে।
জানা গেছে, বিসিএস (পুলিশ) ২০তম ব্যাচের এসব কর্মকর্তা ২০০১ সালের ৩১ মে চাকরিতে যোগদান করেন। সে হিসেবে চলতি বছরের ৩০ মে তাদের চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ হয়। বর্তমানে তাদের অধিকাংশই বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন একাধিক ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি এবং পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে কয়েকজন বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার অবস্থায় রয়েছেন।
অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম, ডিআইজি মো. সাইফুল ইসলাম, ডিআইজি মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ, ডিআইজি শাহ মিজান শাফিউর রহমান, ডিআইজি এস. এম. মোস্তাক আহমেদ খান, ডিআইজি জিহাদুল কবির, ডিআইজি মঈনুল হক, ডিআইজি মো. ইলিয়াছ শরীফ, ডিআইজি শ্যামল কুমার নাথ, ডিআইজি মো. জাকির হোসেন খান, ডিআইজি মো. শাহ আবিদ হোসেন, ডিআইজি মো. জামিল হাসান, ডিআইজি মো. মাহবুবুর রহমান এবং ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান।
এ ছাড়া অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার আরও ১৮ কর্মকর্তাসহ পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কয়েকজন কর্মকর্তাকেও একই আদেশে অবসরে পাঠানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সরকারি চাকরি আইনের বিধান অনুসরণ করেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। তবে একসঙ্গে এত সংখ্যক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তার বাধ্যতামূলক অবসর প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।