বিদ্যুৎখাত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিদ্যুৎ বিল নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন কনটেন্ট ও সংবাদ তিনি প্রতিদিন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠান বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০)’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে তিনি এ কথা বলেন। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এ সংলাপের আয়োজন করে।
মন্ত্রী বলেন, “ইদানীং পত্রপত্রিকা, টেলিভিশন ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররা বিদ্যুতের বিল নিয়ে অনেক আলোচনা করছে। বিভিন্ন কারণে বিদ্যুতের বিল বাড়তে পারে। এমন কোনো দিন নেই, যেদিন প্রধানমন্ত্রী কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের নিউজ আমার কাছে পাঠান না।”
তিনি বলেন, জুন মাস থেকে নতুন বিদ্যুৎ মূল্য কার্যকর হয়েছে। স্ল্যাব পরিবর্তনের কারণে অনেক গ্রাহকের বিল বেড়েছে। তবে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাইয়ের আহ্বান জানান তিনি।
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, “অনেক রিপোর্টারকে বলেছি, বিস্তারিত যাচাই করে রিপোর্ট করবেন। যাচাই ছাড়া সংবাদ প্রকাশ হলে আমাদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়ে। আমরা বসে নেই, সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ করছি।”
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে গণমাধ্যমের সংখ্যা বেড়েছে, ফলে সংবাদ প্রকাশে প্রতিযোগিতাও বেড়েছে। তবে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটকে সতর্ক করা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনও করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ও আলোচনায় উঠে আসা তথ্যের মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে পার্থক্য রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে মূল্য সমন্বয়ের প্রয়োজন হলে শীতকালে করার পরামর্শ দিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা। কারণ শীতকালে বিদ্যুৎ ব্যবহার তুলনামূলক কম থাকায় গ্রাহকদের ওপর প্রভাবও কম পড়ে।
লোডশেডিং প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ বিদ্যুৎ বিভ্রাট বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে নয়, বরং কারিগরি সমস্যার কারণে হচ্ছে। শতভাগ বিদ্যুতায়নের সময় অনেক এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ করা হয়েছিল। চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব লাইনে ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। সমস্যা সমাধানে পল্লী বিদ্যুৎকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগের সরকারের আর্থিক অব্যবস্থাপনার কারণে বিদ্যুৎ খাতে বড় চাপ তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জ্বালানি আমদানির অর্থ পরিশোধে জটিলতা দেখা দিলে উৎপাদনও ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে সৌরবিদ্যুৎ থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এতে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক চাপও কমবে।
তিনি আরও বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নে কৃষিজমি রক্ষায় সরকার সতর্ক রয়েছে। এ কারণে সৌরবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন প্রকল্পে পতিত ও অনাবাদি জমিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
সংলাপে সভাপতিত্ব করেন ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়া। এতে আরও বক্তব্য দেন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম, বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির।