ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) আশঙ্কা করছে, যেকোনো সময় পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে তিস্তা অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এতে তৃতীয় দফা বন্যার শঙ্কায় দিন কাটছে তিস্তাপাড়ের মানুষের।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পরে ১২ ঘণ্টায় পানি বেড়ে সন্ধ্যা ৬টায় বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচে পৌঁছে যায়। বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ৯টায় পানি কিছুটা কমে বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও আবারও পানি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে পাউবো।
এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি কিছুটা কমলেও আগামী তিন দিনে তা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দিতে পারে।
এছাড়া আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন স্থানে সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। ফলে ওইসব জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সম্ভাব্য বন্যা ও নদীভাঙন মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতির জন্য বালুর বস্তা ও জিও ব্যাগ মজুত রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।